যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফিলিস্তিনিদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি এবং বাস্তবতার মধ্যে এই বিশাল ব্যবধানের একটি প্রধান কারণ হলো-যেসব ট্রাক প্রবেশ করছে, তার বেশিরভাগই "অ-অত্যাবশ্যকীয়" বা বেসরকারি বাণিজ্যিক পণ্যের ট্রাক। মানবিক সহায়তার জন্য এগুলো বরাদ্দ নয়। ফলে, তীব্র মানবিক সংকটে থাকা সাধারণ মানুষের কাছে প্রতিশ্রুত খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধ পৌঁছাচ্ছে না। এই অপ্রতুল সরবরাহ গাজার ভয়াবহ চাহিদার তুলনায় একেবারেই অপর্যাপ্ত।
সংকটটি উত্তর গাজায় সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, যেখানে বহু বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি সম্প্রতি নিজেদের বসতভিটায় ফিরতে শুরু করেছেন। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুসারে, গত ৭৫ দিন ধরে ওই অঞ্চলের সীমান্ত পথগুলো দিয়ে সরাসরি কোনো ধরনের মানবিক সহায়তা প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
উত্তরাঞ্চল পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার পরিস্থিতি অবর্ণনীয়। মানুষজন জানিয়েছেন, বাজারের দুষ্প্রাপ্যতার কারণে পণ্যমূল্য সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে চলে গেছে। মাংস এবং ডিমের মতো পুষ্টিকর খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ক্ষুধার্ত অবস্থাতেই তাদের রাত কাটাতে হচ্ছে। এমনকি সামান্য পানীয় জলের জন্যও ফিলিস্তিনিদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি আশার সঞ্চার করলেও, বাস্তব পরিস্থিতির কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। গাজার অধিবাসীরা এখনও মাটির ওপর সত্যিকারের কোনো পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষা করছেন, যা তাদের দৈনন্দিন দুর্ভোগ কমাতে পারে।