ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এই অভিযান শুরুর ঠিক একদিন আগে দেইর আল-বালাহর দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য বাধ্যতামূলক বাস্তুচ্যুতির আদেশ জারি করেছিল। এর ফলে, ইতোমধ্যেই বাস্তুচ্যুত হাজার হাজার ফিলিস্তিনি আবারও তাদের অস্থায়ী আশ্রয় ছেড়ে ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল এবং দক্ষিণের খান ইউনিসের দিকে পালাতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি ট্যাংকগুলো শহরে প্রবেশের পর বাড়িঘর এবং মসজিদের ওপর নির্বিচারে গোলাবর্ষণ শুরু করে। আল জাজিরার সংবাদদাতা দেইর আল-বালাহ থেকে জানান, সারারাত ধরে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান, ট্যাংক এবং নৌবাহিনীর গানবোট থেকে গোলাবর্ষণ চলে, যার ফলে পুরো শহরবাসী এক নির্ঘুম রাত কাটিয়েছে। সাধারণ মানুষ গাধার গাড়ি এবং অন্যান্য মাধ্যমে প্রাণভয়ে পালাচ্ছে।
এই হামলায় জাতিসংঘের দুটি গেস্টহাউস এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) একটি গুদামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইনকে উপেক্ষা করার সামিল। ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (MSF) জানিয়েছে, এই নতুন অভিযানের হুমকির কারণে প্রায় ৮০,০০০ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এই স্থল অভিযানের পাশাপাশি ইসরায়েল খান ইউনিস ও জাবালিয়ার মতো এলাকাতেও বিমান হামলা চালিয়েছে। খান ইউনিসে একটি তাঁবুতে চালানো হামলায় এক দম্পতি ও তাদের দুই সন্তানসহ পাঁচজন নিহত হন।
এই নতুন সামরিক পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ বিশ্বের ২৫টি দেশ গাজায় যুদ্ধ 'এখনই বন্ধ করার' জন্য একটি নজিরবিহীন যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে ইসরায়েলের ত্রাণ বিতরণ ব্যবস্থাকে 'বিপজ্জনক' এবং 'অমানবিক' বলে তীব্র নিন্দা জানানো হয়। একদিকে যখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যুদ্ধ বন্ধের জন্য চাপ দিচ্ছে, তখন ইসরায়েলের এই নতুন স্থল অভিযান গাজার বিপর্যয়কর মানবিক সংকটকে আরও গভীর করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
---