হামাসের বিবৃতিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তানুযায়ী, তারা ৭২ ঘণ্টার নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই ২০ জন জীবিত জিম্মিকে (যাদেরকে তারা 'বন্দী' হিসেবে উল্লেখ করে) মুক্তি দিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে। গোষ্ঠীটি জোর দিয়ে বলেছে, "যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট চরম প্রতিকূল ও কঠিন মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি" সত্ত্বেও এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
গাজা উপত্যকায় চলমান সামরিক তৎপরতা এবং ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা অত্যন্ত জটিল ছিল বলে তারা উল্লেখ করে। এই পদক্ষেপকে তারা চুক্তির প্রতি তাদের আক্ষরিক আনুগত্যের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছে। জীবিত জিম্মিদের মুক্তির পাশাপাশি, চুক্তির অংশ হিসেবে মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে বলে হামাস দাবি করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, চুক্তির আওতায় থাকা মোট ২৮টি মরদেহের মধ্যে তারা এ পর্যন্ত ২৪টি মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এই উদ্ধার অভিযানগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে পরিচালনা করতে হয়েছে বলে জানানো হয়।
অবশিষ্ট মরদেহগুলোর বিষয়ে হামাস জানিয়েছে, সেগুলো বর্তমানে ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত বা সামরিক অভিযান চলছে এমন এলাকায় অবস্থিত, যেখানে তাদের সরাসরি পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে, এ বিষয়ে তারা মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো এবং আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) সাথে সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ রক্ষা করছে।
হামাসের মতে, ওই মরদেহগুলোর সুনির্দিষ্ট অবস্থান বা স্থানাঙ্ক (কো-অর্ডিনেটস) ইতোমধ্যে মধ্যস্থতাকারী এবং রেড ক্রসের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে, যাতে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে সেগুলো উদ্ধারের পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়। চলমান যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ভঙ্গুর এবং প্রায়শই উভয় পক্ষ থেকেই চুক্তি লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। এমন এক জটিল পরিস্থিতিতে হামাসের পক্ষ থেকে এই বিবৃতি এলো।
এই বিবৃতির মাধ্যমে গোষ্ঠীটি মূলত আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের (যেমন মিশর, কাতার) এবং বৈশ্বিক সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করতে চাইছে যে, তারা চুক্তির শর্তাবলী পালনে আন্তরিক এবং যেকোনো জটিলতা নিরসনে তারা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কাজ করতে প্রস্তুত। তবে, হামাসের এই দাবির বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।