শনিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫
২৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লেবাননের রাজধানীতে ইসরায়েলের বিমান হামলা

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ নভেম্বর, ২০২৫, ০৭:৪৮ পিএম

লেবাননের রাজধানীতে ইসরায়েলের বিমান হামলা
ছবি: AFP

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার মধ্যেই লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হিজবুল্লাহর এক প্রভাবশালী নেতাকে লক্ষ্য করে অতর্কিত ও জোরালো বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। রবিবার দুপুরে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক জরুরি বিবৃতিতে এই সামরিক অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

 

লেবাননের স্থানীয় গণমাধ্যম এবং নিরাপত্তা সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে, হামলাটি চালানো হয়েছে বৈরুতের দক্ষিণ উপশহর এলাকায়, যা ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর অত্যন্ত সুরক্ষিত ঘাঁটি বা ‘স্ট্রংহোল্ড’ হিসেবে পরিচিত। জনবসতিপূর্ণ রাজধানীর বুকে এই হামলা যুদ্ধের গতিপ্রকৃতিতে এক নাটকীয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 

আইডিএফ তাদের প্রাথমিক বার্তায় জানিয়েছে, অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হিজবুল্লাহর একজন ‘শীর্ষস্থানীয় সন্ত্রাসীকে’ লক্ষ্য করে এই ‘নির্ভুল’ (Precise) হামলাটি পরিচালনা করা হয়েছে। তবে লক্ষ্যবস্তু করা সেই নেতার নাম-পরিচয় বা হামলার পর তার অবস্থা কী, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

 

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযানের ফলাফল ও বিস্তারিত তথ্য শীঘ্রই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে। হামলার পরপরই ঘটনাস্থল থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশের দিকে উঠতে দেখা যায়, যা স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এই হামলাটি রণকৌশলগত এবং রাজনৈতিক-উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

 

কারণ, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইসরায়েল হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের সামরিক তৎপরতা ও আক্রমণের তীব্রতা বৃদ্ধি করলেও, লেবাননের রাজধানী বৈরুতে সরাসরি আঘাত হানা থেকে এতদিন কৌশলগতভাবে বিরত ছিল। সর্বশেষ গত জুলাই মাসে ইসরায়েলি বাহিনী বৈরুতে হামলা চালিয়েছিল, তবে সেই অভিযানগুলো ছিল মূলত হিজবুল্লাহর অবকাঠামো ধ্বংসের উদ্দেশ্যে এবং সাধারণ মানুষকে আগে থেকে সতর্কবার্তা দিয়ে।

 

কিন্তু রবিবারের এই হামলাটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির-এটি কোনো সাধারণ অবকাঠামো ধ্বংস নয়, বরং নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিচালিত একটি ঝটিকা অভিযান। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, গত এক বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতি চুক্তি হিজবুল্লাহ ক্রমাগত লঙ্ঘন করে আসছে। একইসঙ্গে সশস্ত্র এই গোষ্ঠীটিকে নিরস্ত্র করার বিষয়ে লেবানন সরকারের ধীরগতি এবং দৃশ্যমান ব্যর্থতায় তেল আবিব ক্রমশ ধৈর্য হারাচ্ছিল।

 

হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে ইসরায়েলি সীমান্তে ক্রমাগত রকেট ও ড্রোন হামলার জবাবে এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত পালিত না হওয়ায় ইসরায়েল তাদের আক্রমণের পরিধি বাড়ানোর কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। রাজধানীর মতো সংবেদনশীল এলাকায় এই হামলা প্রমাণ করে যে, নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসরায়েল এখন আর কোনো ভৌগোলিক সীমারেখা বা অলিখিত নিষেধাজ্ঞা মানতে প্রস্তুত নয়। এই ঘটনা লেবানন সীমান্তে পুরোদমে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিল, যা আন্তর্জাতিক মহলের জন্যও গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

- Times Of Israel