মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এবং কৌশলগত পরিকল্পনা ও সংসদ বিষয়ক উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালাই-নিক এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে এই মন্তব্য করেন। মেহের নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা যায়, জেনারেল তালাই-নিক স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের বর্তমান সামরিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তি এবং অভ্যন্তরীণ উদ্ভাবনী শক্তির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি এই প্রযুক্তি বা জ্ঞান বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর ওপর নির্ভর করত, তবে গত ৪৫ বছর ধরে ইরানের প্রতিরক্ষা খাতের ওপর চলা পশ্চিমা বিশ্বের কঠোর নিষেধাজ্ঞার চাপে এই উন্নয়ন অনেক আগেই থমকে যেত। কিন্তু নিজস্ব মেধা ও সম্পদের সঠিক ব্যবহারের ফলে ইরান আজ এই ঈর্ষণীয় অবস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে তিনি দেশটির অকুতোভয় সেনানী ও বিজ্ঞানীদের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। বিশেষ করে ইরানের ‘মিসাইল ব্যবস্থার জনক’ হিসেবে খ্যাত শহীদ হাসান তেহরানি মোকাদ্দাম এবং আমির আলি হাজিজাদেহ-এর মতো শীর্ষস্থানীয় সামরিক ব্যক্তিত্ব ও বিজ্ঞানীদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং আত্মত্যাগের কথা তিনি উল্লেখ করেন।
মুখপাত্রের মতে, এই মহান কারিগরদের কারণেই ইরান আজ বিশ্বের বুকে একটি শক্তিশালী মিসাইল শক্তি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে এবং তাদের দেখানো পথ ধরেই এই প্রযুক্তি প্রতিনিয়ত উন্নত হচ্ছে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তালাই-নিক আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পে বিদেশি নির্ভরতা বর্তমানে প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হয়েছে।
ফলে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপীয় ইউনিয়ন নতুন করে যত কঠোর নিষেধাজ্ঞাই আরোপ করুক না কেন, তা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির বিকাশে বা উৎপাদনে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারবে না। তিনি জানান, প্রযুক্তির স্থানীয়করণের ফলে ইরান এখন নিজেরাই নিজেদের প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি ও আপগ্রেড করতে সক্ষম।
জেনারেল তালাই-নিকের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ইরানের সামরিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। নিজস্ব প্রযুক্তিতে বলীয়ান হয়ে ইরান প্রমাণ করেছে যে, সদিচ্ছা এবং দেশপ্রেম থাকলে দীর্ঘস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল ছিন্ন করে সামরিক স্বয়ম্ভরতা অর্জন করা এবং তা অব্যাহত রাখা সম্ভব। ইরানের এই বার্তা আন্তর্জাতিক মহলে দেশটির অনমনীয় অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ।