সোমবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রতিরোধ যোদ্ধাদের হত্যা ইসরায়েলের পতনকেই ত্বরান্বিত করছে- ইরানের সাবেক আইআরজিসি প্রধানের হুঁশিয়ারি

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর, ২০২৫, ০৮:০৩ পিএম

প্রতিরোধ যোদ্ধাদের হত্যা ইসরায়েলের পতনকেই ত্বরান্বিত করছে- ইরানের সাবেক আইআরজিসি প্রধানের হুঁশিয়ারি
ছবি: MNA

ইরানের প্রভাবশালী নীতিনির্ধারক ও এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিলের সদস্য মোহসেন রেজাই কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, প্রতিরোধ যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে ইসরায়েল যে ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে, তা তেল আবিবের পতনকেই কেবল ত্বরান্বিত করবে। তার মতে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ যদি মনে করে যে শীর্ষ কমান্ডারদের হত্যা করে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরোধ আন্দোলনকে দুর্বল করা সম্ভব, তবে তারা চরম ভুলের মধ্যে রয়েছে।

 

ইরানের কেরমান প্রদেশে অজ্ঞাতনামা শহীদদের এক জানাজা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সাবেক আইআরজিসি প্রধান এই মন্তব্য করেন। রেজাই তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, প্রতিরোধ আন্দোলনের কমান্ডাররা কেবল রাষ্ট্রীয় বা সরকারি কর্মকর্তা নন; বরং তারা সমগ্র জাতি এবং জনগণের ইচ্ছাশক্তির প্রতীক। তিনি বলেন, “প্রতিটি হত্যাকাণ্ড ইসরায়েলকে তার অনিবার্য পরিণতির দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।”

 

তার এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন গত রোববার লেবাননের রাজধানী বৈরুতের উপকণ্ঠ দাহিয়েতে এক আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ কমান্ডার হাইসাম আলি তাবাতাবাইসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। ওই বর্বরোচিত হামলায় নারী ও শিশুসহ আরও ২৮ জন সাধারণ নাগরিক আহত হন।

 

মোহসেন রেজাই উল্লেখ করেন, অতীতে সাইয়্যেদ হাসান নাসরাল্লাহর মতো শীর্ষ নেতার হত্যাকাণ্ডের পরেও লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন দুর্বল না হয়ে বরং আরও শক্তিশালী ও সংহত হয়েছে। তিনি বলেন, ইরান অন্য কোনো দেশের ওপর নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয় না, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের তাদের ‘ধৈর্য ও সংযম’ প্রদর্শনের কৌশল পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন হতে পারে। কারণ, ইসরায়েল এই সংযমকে দুর্বলতা ভেবে সুযোগ নিচ্ছে।

 

বক্তব্যে রেজাই চলতি বছরের জুনে সংঘটিত ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ভয়াবহ স্মৃতিচারণ করেন। গত ১৩ জুন, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা চলছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে ইসরায়েল ইরানের ওপর অতর্কিত ও উস্কানিমূলক আগ্রাসন চালায়। আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে যুক্তরাষ্ট্রও এই যুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে পড়ে এবং ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা বর্ষণ করে।

 

ওই ১২ দিনের যুদ্ধে ইরানের সামরিক কমান্ডার, পরমাণু বিজ্ঞানী এবং সাধারণ নাগরিকসহ অন্তত ১,০৬৪ জন প্রাণ হারান। রেজাই স্মরণ করিয়ে দেন যে, সেই কঠিন সময়ে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সাহসিকতার সাথে জবাব দিয়েছিল। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরান অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের কৌশলগত স্থাপনা এবং কাতারে অবস্থিত পশ্চিম এশিয়ার বৃহত্তম মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ‘আল-উদিদ’-এ হামলা চালায়।

 

গত ২৪ জুন ইরানের সফল প্রতিরোধ অভিযানের মুখেই আগ্রাসন বন্ধ হয়। মোহসেন রেজাই বলেন, জনগণের অটুট মনোবল এবং অসামান্য আত্মত্যাগের কারণেই ইরান বিশ্বযুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মতো বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছে এবং নিজেদের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে সক্ষম হয়েছে।

 

- Mehr News