রবিবার, ডিসেম্বর ৭, ২০২৫
২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাজায় কার্যক্রম গোটালো মার্কিন-ইসরায়েল সমর্থিত জিএইচএফ

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:০০ পিএম

গাজায় কার্যক্রম গোটালো মার্কিন-ইসরায়েল সমর্থিত জিএইচএফ
ছবি: AFP

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় মাত্র পাঁচ মাস কার্যক্রম চালানোর পর নিজেদের সব ধরনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে ‘গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন’ (জিএইচএফ)। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রত্যক্ষ সমর্থনে গঠিত এই সংস্থাটি গাজায় ত্রাণ বিতরণে এক নতুন মডেল দাঁড় করানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও, শুরু থেকেই নানামুখী বিতর্ক ও সহিংস ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।

 

অবশেষে সোমবার এক বিবৃতির মাধ্যমে সংস্থাটি তাদের কার্যক্রম সমাপ্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। জিএইচএফ-এর নির্বাহী পরিচালক জন অ্যাক্রি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল গাজায় মানবিক সহায়তার জরুরি প্রয়োজন মেটানো এবং এমন একটি সফল কাঠামো তৈরি করা যা পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে হস্তান্তর করা যাবে।

 

তিনি দাবি করেন, ‘সিভিল-মিলিটারি কোঅর্ডিনেশন সেন্টার’ (সিএমসিসি) গঠনের মাধ্যমে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পুনরায় অংশগ্রহণের ফলে তাদের সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। অ্যাক্রি আরও জানান, সিএমসিসি এখন থেকে জিএইচএফ-এর প্রবর্তিত মডেল অনুসরণ করেই ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এই মডেলে হামাসের প্রভাবমুক্ত রাখার অজুহাতে বেসামরিক জনবসতি থেকে দূরে সামরিক নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে ত্রাণ বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

 

যদিও জিএইচএফ একটি আমেরিকান সংস্থা হিসেবে নিবন্ধিত, তবুও এর প্রতিষ্ঠার নেপথ্যে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকারের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের গভীর সংশ্লিষ্টতা ছিল। ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছিল যে, হামাস মানবিক সহায়তাগুলো নিজেদের কাজে ব্যবহার করছে। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাকে পাশ কাটিয়ে গাজায় ত্রাণ বিতরণের একক কর্তৃপক্ষ হিসেবে জিএইচএফ-কে প্রতিষ্ঠিত করার পরিকল্পনা ছিল তেল আবিবের।

 

নেতানিয়াহু চেয়েছিলেন, হামাসের কথিত শোষণ বন্ধ করতে জিএইচএফ যেন গাজায় প্রধান ত্রাণ সরবরাহকারী হয়ে ওঠে। তবে মাঠপর্যায়ে সংস্থাটির কার্যক্রম ছিল রক্তক্ষয়ী ও বিশৃঙ্খল। ত্রাণ সংগ্রহ করতে আসা সাধারণ ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি সেনাদের গুলিবর্ষণের ঘটনা ছিল নিত্যদিনের চিত্র। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিএইচএফ-এর ত্রাণ কেন্দ্রগুলোর আশপাশে সহিংসতায় অন্তত ১,০০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

 

যদিও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এই হতাহতের সংখ্যাকে অতিরঞ্জিত বলে দাবি করেছে। তাদের ভাষ্যমতে, সৈন্যরা কেবল হুমকি মনে করলেই সতর্কতামূলক গুলি চালিয়েছে এবং ভিড়ের মধ্যে হামাস সদস্যরাও গুলি চালিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করেছে। গ্রীষ্মের শেষের দিকে ত্রাণ কেন্দ্রগুলোর আশপাশে মৃত্যুর ঘটনা কিছুটা কমে এলেও সংস্থাটির সার্বিক সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

 

জিএইচএফ দাবি করেছে, তারা গাজাবাসীর মধ্যে ১৮ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি মিল বা খাবার বিতরণ করেছে। তবে ২০ লাখ মানুষের চাহিদার তুলনায় এটি ছিল অত্যন্ত নগণ্য। তাছাড়া, ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি ত্রাণ কেন্দ্র ৩টি থেকে বাড়িয়ে ১৬টিতে উন্নীত করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা কখনোই আলোর মুখ দেখেনি। শেষ পর্যন্ত সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ গাজায় প্রবেশ করা মোট ত্রাণের খুব সামান্য অংশই জিএইচএফ বিতরণ করতে সক্ষম হচ্ছিল। সংস্থাটি চলে যাওয়ার মাধ্যমে গাজার মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে একটি বিতর্কিত ও রক্তাক্ত অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।

 

- Times Of Israel