পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাডোস্লাভ সিকোরস্কি অভিযোগ করেছেন, ওই পোস্টে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যা বিভ্রান্তিকর এবং পোল্যান্ডের জন্য অবমাননাকর। ঘটনার মূলে রয়েছে গত ২৩ নভেম্বর ইয়াদ ভাশেমের করা একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট। সেখানে উল্লেখ করা হয়, “পোল্যান্ড ছিল প্রথম দেশ যেখানে ইহুদিদের সাধারণ জনসংখ্যা থেকে আলাদা করার লক্ষ্যে শরীরে বিশেষ চিহ্ন বা ব্যাজ পরতে বাধ্য করা হয়েছিল।”
পোস্টটিতে ১৯৩৯ সালের ২৩ নভেম্বরের একটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়, যেখানে নাৎসি জার্মানির অধিকৃত অঞ্চলের গভর্নর হ্যান্স ফ্রাঙ্ক একটি আদেশ জারি করেছিলেন। আদেশে বলা হয়েছিল, ১০ বছর বা তার বেশি বয়সী সকল ইহুদিকে তাদের ডান বাহুতে নীল রঙের ‘স্টার অফ ডেভিড’ খচিত ১০ সেন্টিমিটার চওড়া একটি সাদা আর্মব্যান্ড পরতে হবে।
পোলিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিকোরস্কির প্রধান আপত্তি হলো পোস্টের ভাষা ও বাক্যগঠন নিয়ে। তিনি যুক্তি দেখান যে, পোস্টটি পড়ে সাধারণ পাঠকের মনে হতে পারে এই বৈষম্যমূলক ও অমানবিক সিদ্ধান্তটি পোলিশ রাষ্ট্র বা জনগণ নিয়েছিল। অথচ ঐতিহাসিক সত্য হলো, সেই সময়ে পোল্যান্ড ছিল নাৎসি জার্মানির পূর্ণাঙ্গ দখলে এবং ওই আদেশটি ছিল জার্মান দখলদার বাহিনীর।
সিকোরস্কি এর আগে দাবি জানিয়েছিলেন যে, পোস্টে স্পষ্টভাবে ‘জার্মান-অধিকৃত পোল্যান্ড’ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করা উচিত ছিল। প্রতিক্রিয়ায় ইয়াদ ভাশেম তাদের মূল পোস্টটি পুনরায় শেয়ার করে একটি ব্যাখ্যামূলক ক্যাপশন যোগ করে। সেখানে তারা লেখে, “অনেক ব্যবহারকারী যেমনটি উল্লেখ করেছেন এবং সংযুক্ত নিবন্ধে যেমনটি স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এই কাজটি জার্মান কর্তৃপক্ষের আদেশেই করা হয়েছিল।”
তবে মূল পোস্টটিতে কোনো সংশোধনী না আনায় পোলিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তিনি এক্স-এ এক বার্তায় জানান, “যেহেতু বিভ্রান্তিকর পোস্টটি সংশোধন করা হয়নি, তাই আমি পোল্যান্ডে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতকে তলব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” এই ঘটনায় পোল্যান্ডে অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের চলমান ঐতিহাসিক ও কূটনৈতিক বিবাদেরই একটি নতুন অধ্যায়।
হলোকাস্টের সময় পোল্যান্ডের ভূমিকা এবং ইতিহাসের স্মৃতিচারণ নিয়ে ওয়ারশ এবং তেল আবিবের মধ্যে প্রায়শই মতপার্থক্য দেখা যায়। পোল্যান্ড সরকার দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এটি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে যে, নাৎসি জার্মানির অপরাধের দায় কোনোভাবেই পোল্যান্ডের ওপর চাপানো উচিত নয়, কারণ তারাও ছিল সেই আগ্রাসনের অন্যতম শিকার।