সোমবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লন্ডনে আন্তর্জাতিক মেরিটাইম সংস্থার ৩৪তম সম্মেলনে ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ নভেম্বর, ২০২৫, ০৪:৪৪ পিএম

লন্ডনে আন্তর্জাতিক মেরিটাইম সংস্থার ৩৪তম সম্মেলনে ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা
ছবি: MNA

আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক অঙ্গনে সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে লন্ডনে শুরু হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন বা আন্তর্জাতিক মেরিটাইম সংস্থার (আইএমও) ৩৪তম অ্যাসেম্বলি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মেলনে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করেছে।

 

ইরানের এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির বন্দর ও সামুদ্রিক সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইদ রাসুলি। আন্তর্জাতিক নৌ-নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষার ক্ষেত্রে ইরানের এই অংশগ্রহণকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আইএমও-এর সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে সংস্থার ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও বিগত দিনের অর্জন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

 

সম্মেলনের শুরুতেই আইএমও-এর মহাসচিব আর্সেনিও ডমিঙ্গুয়েজ তাঁর স্বাগত বক্তব্যে সংস্থার মূল উদ্দেশ্য এবং কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বিশ্বজুড়ে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিতকরণ এবং সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষায় সংস্থার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। আর্সেনিও ডমিঙ্গুয়েজ উল্লেখ করেন যে, এবারের অ্যাসেম্বলির আলোচ্যসূচিতে সংস্থার মিশন বা লক্ষ্যমাত্রার পাশাপাশি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল বা কার্যক্রম সংক্রান্ত প্রস্তাবনা গ্রহণ করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

 

মহাসচিব তাঁর বক্তব্যে বিগত দুই বছরে মেরিটাইম সেফটি কমিটি এবং মেরিন এনভায়রনমেন্ট প্রোটেকশন কমিটির অসামান্য কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এই দুটি কমিটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং সমুদ্র দূষণ হ্রাসে যে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে, তা বিশ্বব্যাপী প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিশেষ করে, সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব কমানোর ক্ষেত্রে তাদের গৃহীত পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

 

সম্মেলনে মহাসচিব আর্সেনিও ডমিঙ্গুয়েজ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আইএমও-এর সাংগঠনিক লক্ষ্য পূরণে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি কারিগরি সহযোগিতা জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, বর্তমান বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সামুদ্রিক জ্বালানিকে কার্বনমুক্ত করা বা ডিকার্বনাইজেশন প্রক্রিয়ার অগ্রগতি অত্যন্ত জরুরি।

 

এ লক্ষ্যে প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। তিনি উপস্থিত প্রতিনিধিদের আহ্বান জানান, যেন তাঁরা কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং পরিবেশবান্ধব নৌ-পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে একযোগে কাজ করেন। ইরানের প্রতিনিধিদলের প্রধান সাইদ রাসুলির নেতৃত্বে এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক মেরিটাইম সেক্টরে ইরানের সক্রিয় উপস্থিতিরই বহিঃপ্রকাশ।

 

এই সম্মেলনের মাধ্যমে ইরান এবং অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রগুলো তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথ কর্মপন্থা নির্ধারণের সুযোগ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। লন্ডনে চলমান এই অ্যাসেম্বলি আগামী দিনগুলোতে বিশ্বব্যাপী নৌ-বাণিজ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

 

- Mehr News