স্থানীয় ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস এবং তদন্তকারী কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা বা যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত নাশকতামূলক অগ্নিসংযোগের (Arson) ঘটনা। ইসরায়েলের ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে যখন শহরের অধিকাংশ মানুষ ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই শহরের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে আগুনের খবর আসতে শুরু করে। খবর পাওয়া মাত্রই দমকল বাহিনীর একাধিক ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
অগ্নিনির্বাপক দলের সদস্যদের মতে, আগুন লাগার সময় এবং স্থানগুলোর ভৌগোলিক অবস্থান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, বাসগুলোতে প্রায় একই সময়ে আগুন জ্বলে ওঠে। শহরের আলাদা আলাদা জায়গায় একই সময়ে একাধিক বাসে আগুন লাগার এই বিষয়টিই তদন্তকারীদের মনে সন্দেহের দানা বাঁধিয়েছে যে, দুর্বৃত্তরা ইচ্ছাকৃতভাবে এই কাজ করেছে।
দমকল কর্মীদের দ্রুত ও দক্ষ পদক্ষেপের কারণে একটি বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। আগুন বাসের কাঠামো গ্রাস করে ফেললেও, দমকল কর্মীরা তা আশেপাশের আবাসিক ভবন এবং দোকানপাটে ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে সক্ষম হন। আগুনের লেলিহান শিখা এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন।
সবচেয়ে স্বস্তির বিষয় হলো, এই ভয়াবহ অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনার সময় বাসগুলো যাত্রীশূন্য ছিল এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা নিভিয়ে ফেলা সম্ভব হয়েছিল। শফারাম মূলত ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের একটি আরব জনবসতিপূর্ণ শহর। এই ধরণের ঘটনা শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার পরপরই ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিসের বিশেষ তদন্তকারী দল এবং স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তারা অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিবিড় তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তকারীরা আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছেন এবং প্রত্যক্ষদর্শী কেউ আছে কি না, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।
কারা এবং কী উদ্দেশ্যে রাতের অন্ধকারে এই নাশকতা চালিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে তারা বদ্ধপরিকর এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়েও সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।