বুধবার আইডিএফ-এর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য ছিল যে, একজন হামাস অপারেটিভ ইসরায়েলি সেনাদের ওপর বড় ধরনের প্রাণঘাতী হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিশেষ করে শহুরে যুদ্ধের ক্ষেত্রে স্নাইপার হামলা বা দূরপাল্লার নির্ভুল গুলি চালানোর কৌশলটি অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসেবে গণ্য হয়।
এই হুমকি নস্যাৎ করতেই দ্রুততার সঙ্গে বিমান হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আইডিএফ দাবি করেছে, এই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে মূলত তাদের সেনাদের জীবন রক্ষা করার স্বার্থে এবং এটি যুদ্ধের নিয়মনীতির আওতাভুক্ত। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আইডিএফ তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে যে, এই হামলাটি বিদ্যমান ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তি’র (Ceasefire Agreement) শর্তাবলীর আলোকেই পরিচালিত হয়েছে।
সাধারণত যুদ্ধবিরতি চলাকালীন উভয় পক্ষের মধ্যে আক্রমণাত্মক অভিযান বন্ধ থাকার কথা। কিন্তু ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, চুক্তিতে সেনাদের ওপর আসন্ন বা তাৎক্ষণিক হুমকি মোকাবিলার সুযোগ রাখা হয়েছে। উত্তর গাজায় অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং একটি নিশ্চিত হামলা প্রতিহত করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে তারা যুক্তি দেখিয়েছে।
অভিযানের সত্যতা প্রমাণে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী হামলার একটি ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করেছে। ফুটেজটিতে আকাশ থেকে চালানো নিখুঁত হামলায় লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত হানার দৃশ্য দেখা গেছে। তবে নিহত ব্যক্তির নাম বা পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি আইডিএফ। উত্তর গাজা দীর্ঘদিন ধরেই সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
যদিও সেখানে বর্তমানে একটি আপেক্ষিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে, তবুও এমন বিচ্ছিন্ন ঘটনা পরিস্থিতির ভঙ্গুর অবস্থাকেই নির্দেশ করে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির কথা উল্লেখ করে হামলা চালানোর এই ঘটনাটি সামরিক ও কূটনৈতিক-উভয় দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ।
এটি ইঙ্গিত দেয় যে, যুদ্ধবিরতি বজায় থাকলেও মাঠ পর্যায়ে যেকোনো ধরনের সামরিক হুমকি বা প্রস্তুতির বিরুদ্ধে ইসরায়েল তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বা শূন্য সহনশীলতা বজায় রাখছে। হামাসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এই ঘটনার বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও, এই হত্যাকাণ্ড উত্তর গাজায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে এবং চলমান শান্তি প্রচেষ্টায় জটিলতা বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।