রবিবার, ডিসেম্বর ৭, ২০২৫
২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তিপ্রস্তর ‘মহাজের’ ড্রোন

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর, ২০২৫, ০২:২৪ পিএম

ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তিপ্রস্তর ‘মহাজের’ ড্রোন
ছবি: MNA

ইরান-ইরাক যুদ্ধের কঠিন সময়ে প্রবল প্রয়োজনের তাগিদে জন্ম নেওয়া ‘মহাজের’ ড্রোন পরিবার বর্তমানে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। প্রায় চার দশক আগে রণক্ষেত্রে নজরদারির সাধারণ প্রয়োজন মেটানোর জন্য এর যাত্রা শুরু হলেও, আজ এটি ইরানের আকাশসীমা সুরক্ষা, সামরিক অভিযান এবং কৌশলগত প্রতিরোধের মূল স্তম্ভ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

 

নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি এই মনুষ্যবিহীন আকাশযান বা ইউএভি (UAV) সিরিজটি এখন কেবল ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার রক্ষাকবচই নয়, বরং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সামরিক সমীকরণেও এক শক্তিশালী হাতিয়ার। শুরুতে মহাজের-১ ড্রোনের মূল লক্ষ্য ছিল অত্যন্ত সাধারণ-শত্রুঘাঁটির অবস্থান পর্যবেক্ষণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং রণাঙ্গনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা। সে সময় ইরানের আকাশপথে গোয়েন্দা তথ্যের চরম ঘাটতি ছিল।

 

তবে মহাজের-১ এর সাফল্য ইরানকে নিজস্ব সক্ষমতা বাড়াতে উৎসাহিত করে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং বিদেশি প্রযুক্তির অভাব সত্ত্বেও ইরান ধাপে ধাপে এর ইঞ্জিন, কাঠামো এবং পাল্লা বৃদ্ধি করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে মহাজের পরিবারের সদস্য সংখ্যা ও সক্ষমতা বহুগুণ বেড়েছে। এখন মহাজের-৬ এবং মহাজের-১০ এর মতো অত্যাধুনিক সংস্করণগুলো কেবল নজরদারিতেই সীমাবদ্ধ নেই; এগুলো এখন উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা, থার্মাল ইমেজিং, জিপিএস নেভিগেশন এবং নিখুঁত হামলায় সক্ষম গাইডেড মিসাইল বা নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র বহনে পারদর্শী।

 

মহাজের সিরিজের এই বিবর্তন ইরানের আত্মনির্ভরশীলতা ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। কয়েক দশকের অর্থনৈতিক চাপ ও কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে দাঁড়িয়েও ইরান প্রমাণ করেছে যে, তারা বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল না হয়েই ইলেকট্রনিক্স, অ্যারোডাইনামিক্স এবং অস্ত্র সংযোজন প্রযুক্তিতে বিশ্বমানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম। বর্তমানে সীমান্ত সুরক্ষা, দুর্গম অঞ্চলে নজরদারি, অবৈধ চলাচল রোধ এবং সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে এই ড্রোনগুলো 'গেম চেঞ্জার' হিসেবে কাজ করছে।

 

দীর্ঘ সময় আকাশে ওড়ার ক্ষমতা এবং তাৎক্ষণিক লাইভ ছবি প্রেরণের সুবিধার কারণে স্থলবাহিনীর জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর এক সহযোগী। সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং বিভিন্ন সামরিক মহড়ায় মহাজের ড্রোনের সফল ব্যবহার এর কৌশলগত গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে ইসরায়েলের সাথে সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও ১২ দিনের সংঘাতে এই ড্রোনগুলোর কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মহাজের কেবল একটি সমরাস্ত্র নয়, বরং এটি ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সামরিক কৌশলের একটি অপরিহার্য স্তম্ভ। যুদ্ধকালীন উদ্ভাবন থেকে শুরু করে আজকের এই বহুমুখী সক্ষমতা অর্জন-মহাজের ড্রোনের এই যাত্রা ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পের অদম্য স্পৃহা এবং আধুনিকীকরণেরই প্রতিফলন।

 

- Mehr News