দীর্ঘ শুনানির পর আদালত জানিয়েছে, পেশাগত দায়িত্ব পালনরত এই গণমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের কোনো সত্যতা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে এই রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। খালাসপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপির প্রখ্যাত আলোকচিত্র সাংবাদিক ইয়াসিন আগুল, তুর্কি সম্প্রচার মাধ্যম ‘নাও হাবের’ (NOW Haber)-এর সাংবাদিক আলি অনুর তোসুন এবং ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক বুলেন্ট কিলিচ ও জেইনেপ কুরায়।
তুরস্কের প্রভাবশালী পত্রিকা ‘হুরিয়েত ডেইলি নিউজ’-এর তথ্যমতে, এই একই মামলার রায়ে আরও তিনজন সাংবাদিককেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। প্রসিকিউশন বা রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ করেছিল যে, অভিযুক্তরা তুরস্কের ‘মিটিং এবং ডেমোনস্ট্রেশন’ বিষয়ক ২৯১১ নম্বর আইন লঙ্ঘন করেছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এই আইনটি প্রায়শই শান্তিপূর্ণ সমাবেশ দমনে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
অন্যদিকে, সরকারের সমর্থকদের দাবি, জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই আইনের প্রয়োগ জরুরি। ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল গত মার্চ মাসে, যখন ইস্তাম্বুলের জনপ্রিয় মেয়র এবং প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক সমালোচক একরেম ইমামোগলুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে ইস্তাম্বুলজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়।
সেই উত্তাল পরিস্থিতির সংবাদ ও ছবি সংগ্রহ করতে গিয়েই পুলিশের বাধার মুখে পড়েন এবং আটক হন এই সাংবাদিকরা। যদিও তুরস্ক সরকার বরাবরই বিচার বিভাগে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে, তবুও এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছিল। আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে এএফপি এবং গণমাধ্যম অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস’ (আরএসএফ)।
এএফপির গ্লোবাল নিউজ ডিরেক্টর ফিল চেটউইন্ড এক বিবৃতিতে বলেন, “ইয়াসিন আগুল এবং তার সহকর্মীদের খালাসের খবরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। ইস্তাম্বুলের রাজপথে নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনকারী আলোকচিত্রীদের বিরুদ্ধে এমন মামলা কখনোই দায়ের করা উচিত ছিল না।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, সাংবাদিকদের কোনো প্রকার বাধা বা হয়রানি ছাড়াই বিক্ষোভ ও সমাবেশের সংবাদ সংগ্রহের পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে।
আরএসএফ শুরু থেকেই এই মামলাটিকে ‘বেআইনি’ ও ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ হিসেবে অভিহিত করে আসছিল। রায়ের পর নিজের স্বস্তির কথা জানিয়ে আলোকচিত্র সাংবাদিক ইয়াসিন আগুল এএফপিকে বলেন, “দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার মানসিক চাপ এবং কাজে মনোযোগ দেওয়ার যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তা অবশেষে দূর হয়েছে।
এখন আমি আরও বেশি উদ্যম ও সাহসের সঙ্গে সাংবাদিকতার পথে এগিয়ে যাব।” তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সঠিক সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে এবং কারাগারে থাকা অন্যান্য সাংবাদিকরাও দ্রুত মুক্তি পাবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন। এই রায় তুরস্কে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার লড়াইয়ে একটি ছোট কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ বিজয় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।