শুক্রবার তেহরানে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই উদ্বেগের কথা জানান। সম্প্রতি দক্ষিণ সিরিয়ার বেইত জিন এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী যে অতর্কিত আগ্রাসন চালিয়েছে, তাতে বেশ কয়েকজন নিরীহ সিরীয় নাগরিকের প্রাণহানি ঘটেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নিহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, ইসরায়েলি বাহিনীর এই বর্বরোচিত হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত। ইসমাইল বাঘাই তাঁর বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলেন, এই অঞ্চলের জনগণের তাদের জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করার সহজাত ও ন্যায়সংগত অধিকার রয়েছে।
ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সিরীয় যুবকদের সশস্ত্র প্রতিরোধকে তিনি ‘স্বাভাবিক এবং বৈধ’ প্রতিক্রিয়া হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তাঁর মতে, যখন কোনো দখলদার বাহিনী আগ্রাসন চালায়, তখন মাতৃভূমি রক্ষায় রুখে দাঁড়ানোই দেশপ্রেমিক নাগরিকদের নৈতিক দায়িত্ব। ইরানি মুখপাত্র তেল আবিব প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে চলছে এবং পুরো অঞ্চলজুড়ে তাদের অপরাধমূলক কার্যক্রমের বিস্তার ঘটাচ্ছে।
তিনি সিরিয়া এবং লেবাননসহ এই অঞ্চলের স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর ইসরায়েলের বারবার হামলার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের, বিশেষ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের (UNSC) নিষ্ক্রিয়তা ও নীরবতা নিয়ে গভীর দুঃখ ও হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর এই নীরবতা ইসরায়েলকে আরও বেপরোয়া করে তুলছে।
নিরাপত্তা পরিষদ যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে এই পরিস্থিতি কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্যও ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করবে। কূটনৈতিক শিষ্টাচার মেনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তেহরান।