তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসরায়েলি বাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা ও অবকাঠামো কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে, যা সরকারি ভাষ্যে স্বীকার করা হচ্ছে না। জেনারেল জাফারি ঘটনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জানান, গত ১৩ জুন ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ইরানের জ্যেষ্ঠ কমান্ডার, পরমাণু বিজ্ঞানী এবং সাধারণ নাগরিকদের হত্যা করে।
এর ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইরান 'ট্রু প্রমিজ-৩' (True Promise III) অভিযানের আওতায় ইসরায়েলের ওপর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। সংঘাতের একপর্যায়ে ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হস্তক্ষেপ করে এবং ইরানের তিনটি পরমাণু কেন্দ্রে বিমান হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটি 'আল-উদেইদ'-এ পাল্টা হামলা চালায়।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনুধাবন করে ২৪ জুন ইসরায়েল একতরফা যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে বাধ্য হয়। জাফারি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দীর্ঘ এক দশক ধরে গোয়েন্দা তৎপরতা চালিয়ে ইরানের জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে উসকে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইরানের পরোক্ষ পরমাণু আলোচনা চলাকালীন এই হামলা চালানো হয়।
কিন্তু আগ্রাসনের পর ইরানের জনগণ, সর্বোচ্চ নেতা এবং স্বেচ্ছাসেবীদের অটুট মনোবল শত্রুপক্ষের সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়েছে। তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্ম ও নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র শক্তির ওপর নির্ভর করেই ইরান এই শক্তিশালী জবাব দিতে সক্ষম হয়েছে। ইসরায়েলে সামরিক সেন্সরশিপ আইনের কড়াকড়ির কারণে যুদ্ধের সময়কার অনেক সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশে বাধা রয়েছে। তবে নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে।
জুলাইয়ের শুরুতে অরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকদের তথ্যে দেখা গেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম 'দ্য টেলিগ্রাফ'-এর প্রতিবেদনেও নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ইসরায়েলের উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত গোয়েন্দা কেন্দ্র ও লজিস্টিক ঘাঁটিতে অন্তত ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে, যার প্রমাণ রাডার ইমেজেও স্পষ্ট। যদিও ইসরায়েলি বাহিনী এসব তথ্য কখনোই স্বীকার করেনি।
সামরিক ক্ষতির পাশাপাশি ইসরায়েলের অর্থনীতিতেও বড় ধরনের ধস নেমেছে। ইসরায়েলি কর কর্তৃপক্ষের পরিচালক শাই আরোনোভিখের বরাতে সংবাদমাধ্যম 'ওয়াইনেট' জানিয়েছে, যুদ্ধের মাত্র ১২ দিনে ৫৩ হাজার ৫৯৯টি ক্ষতিপূরণের দাবি জমা পড়েছে।
প্রত্যক্ষ ক্ষতির পরিমাণ অন্তত ১১০ কোটি ডলার (৪ বিলিয়ন শেকেল) এবং পরোক্ষ ক্ষতির পরিমাণ এর চেয়েও কয়েকগুণ বেশি হতে পারে। এমনকি ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'ভাইজম্যান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স'-ও এই হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে