স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার সময় তাদের বহনকারী গাড়িতেও নির্বিচারে হামলা চালানো হয়েছে। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, শুক্রবার ভোররাত ৩টার দিকে ইসরায়েলি সেনারা বেইত জিন গ্রামে প্রবেশ করে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তিকে আটক করা। এসময় গ্রামবাসী বাধা দিলে ইসরায়েলি বাহিনী ড্রোন, হেলিকপ্টার এবং ভারী মেশিনগান ব্যবহার করে ব্যাপক গুলিবর্ষণ শুরু করে।
ফিরাস দাহের নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, ইসরায়েলি সেনারা গ্রামের ভেতরে সামান্য প্রতিরোধের মুখে পড়ার পরই ধ্বংসাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখায়। তিনি বলেন, “গ্রামে যারাই নড়াচড়া করার চেষ্টা করেছে বা কোনো গাড়ি বের করেছে, তাদের ওপরই গুলি চালানো হয়েছে। এমনকি আমরা যখন আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করছিলাম, তখন তাদের বহনকারী গাড়িতেও হামলা চালানো হয়।”
নিহতদের মধ্যে সাধারণ বেসামরিক নাগরিকরাই বেশি। স্থানীয় কর্মকর্তা ওয়ালিদ ওকাশা জানান, নিহতদের তালিকায় এক দম্পতি, তাদের দুই সন্তান এবং শিশুদের চাচা রয়েছেন। হৃদয়বিদারক ঘটনা হলো, আগের দিন বিয়ে করা এক যুবকও এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। ইসরায়েলি আগ্রাসনের মুখে গ্রামের বহু পরিবার প্রাণভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েল দাবি করেছে যে তারা ‘জামা ইসলামিয়া’ নামক একটি জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্যদের আটক করতে এই অভিযান চালিয়েছিল, যারা ইসরায়েলে রকেট হামলা ও আইইডি বিস্ফোরণের পরিকল্পনা করছিল। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ভাষ্যমতে, সন্দেহভাজনরা সেনাদের লক্ষ্য করে গুলি চালালে তাদের ছয়জন সেনা আহত হয় এবং পাল্টা জবাবে তারা বিমান সহায়তা নিয়ে অভিযান চালায়। ইসরায়েল দাবি করেছে, অভিযান শেষ হয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর থেকে ইসরায়েল সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের একটি বিশাল অংশ দখল করে নিয়েছে, যা ১৯৭৪ সালের চুক্তির অধীনে জাতিসংঘের তদারকিতে থাকা একটি বাফার জোন ছিল। এরপর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী নিয়মিত এই অঞ্চলের গ্রামগুলোতে অভিযান চালাচ্ছে।
এর আগে এপ্রিলে নাওয়া শহরে এবং মার্চে কোয়াইয়াহ গ্রামেও একই ধরনের অভিযানে বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছিলেন। সিরিয়ার সরকার এই ঘটনাকে তাদের জাতীয় সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে এবং ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন লেবানন সীমান্তেও উত্তেজনা চরমে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, গত এক বছরে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১২৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।