শনিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫
২৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের আসন্ন তেহরান সফর

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৮:১৭ পিএম

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের আসন্ন তেহরান সফর
ছবি: MNA

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে তুরস্ক ও ইরানের কৌশলগত সম্পর্কের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ খবর সামনে এসেছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সম্ভাব্য ইরান সফর নিয়ে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা ও সমন্বয় শুরু হয়েছে। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।

 

তিনি জানিয়েছেন, তুরস্কের রাষ্ট্রপ্রধানের তেহরান সফরের বিষয়টি নীতিগতভাবে চূড়ান্ত হয়েছে এবং এখন কেবল সফরের দিনক্ষণ ঠিক করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তেহরানে আয়োজিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, "তুরস্কের প্রেসিডেন্টের ইরান সফর নিয়ে বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে নিবিড় সমন্বয় চলছে। নীতিগতভাবে এই সফরের ব্যাপারে উভয় দেশ সম্মত হয়েছে।

 

আমার সহকর্মীরা সফরের সুনির্দিষ্ট তারিখ এবং একটি উপযুক্ত সময় নির্ধারণের জন্য তুর্কি কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।" মুখপাত্রের এই বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, খুব শীঘ্রই এই উচ্চপর্যায়ের রাষ্ট্রীয় সফরটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সংহত ও শক্তিশালী করবে। এরদোয়ানের এই গুরুত্বপূর্ণ সফরের পটভূমি তৈরির কাজ ও কূটনৈতিক প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।

 

এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত রবিবার তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান তেহরান সফর করেন। এই ঝটিকা সফরে তিনি ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও নীতিনির্ধারণী বৈঠকে মিলিত হন। ফিদান প্রথমেই তার ইরানি সমকক্ষ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির সাথে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। পররাষ্ট্রপর্যায়ের এই বৈঠকের পাশাপাশি তিনি ইরানের আইনসভার স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথেও সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেন।

 

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ত্বরিত সফর এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট ও স্পিকারের মতো শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক মূলত এরদোয়ানের সফরের এজেন্ডা এবং আলোচনার বিষয়বস্তু ঠিক করার লক্ষ্যেই পরিচালিত হয়েছে। ইরান ও তুরস্ক-উভয় দেশই আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে চায় এবং একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার।

 

এমতাবস্থায়, এরদোয়ানের আসন্ন তেহরান সফর কেবল একটি কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এখন আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি কবে নাগাদ এই সফরের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করা হয়, সেদিকেই নিবদ্ধ রয়েছে।

 

- Mehr News