শনিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫
২৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আঞ্চলিক শান্তি ও গাজা সংকট নিরসনে ইরান ও তুরস্কের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ও দৃঢ় অঙ্গীকার

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০২:০৭ পিএম

আঞ্চলিক শান্তি ও গাজা সংকট নিরসনে ইরান ও তুরস্কের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ও দৃঢ় অঙ্গীকার
ছবি: MNA

মধ্যপ্রাচ্যের দুই প্রভাবশালী শক্তি ইরান ও তুরস্ক আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। সম্প্রতি তেহরানে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

 

দুই নেতাই একমত হয়েছেন যে, ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা এবং বিদ্যমান সংকটগুলো মোকাবিলা করা সম্ভব। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানান, তার তুর্কি সমকক্ষ হাকান ফিদান এবং তার সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে উভয় পক্ষই দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বর্তমান ইতিবাচক গতিপথ পর্যালোচনা করেন।

 

একইসঙ্গে অর্থনীতি, বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহন, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর ও বিস্তৃত করার বিষয়ে উভয় দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের দৃঢ় ইচ্ছার কথা তুলে ধরা হয়। দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের এই মেলবন্ধন কেবল তাদের নিজেদের জন্যই নয়, বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্যও অপরিহার্য বলে তারা মনে করেন। আলোচনার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশজুড়ে ছিল ফিলিস্তিন পরিস্থিতি।

 

গাজা এবং পশ্চিম তীরের বর্তমান মানবিক বিপর্যয় নিয়ে উভয় পক্ষ গভীর উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করেছে। ইসরায়েলি বাহিনী কর্তৃক পরিচালিত সামরিক অভিযানকে সরাসরি ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করে ইরান ও তুরস্ক এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। উভয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী একমত হয়েছেন যে, ফিলিস্তিনিদের ওপর চলা এই জঘন্য অপরাধযজ্ঞ ও আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধ করা প্রয়োজন।

 

পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক ফোরামে ইসরায়েলকে এই মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য জবাবদিহিতার আওতায় আনার বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সিরিয়া ও লেবাননের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আব্বাস আরাকচি জোর দিয়ে বলেন, ইরান ও তুরস্ক উভয় দেশই এই রাষ্ট্রগুলোর জাতীয় সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং জাতীয় ঐক্যের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল।

 

সিরিয়া ও লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত আগ্রাসনের কঠোর সমালোচনা করে তারা বলেন, এই ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। প্রতিবেশীদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং বহিরাগত আগ্রাসন প্রতিরোধে তেহরান ও আঙ্কারা একযোগে কাজ করে যাবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটময় মুহূর্তে দুই শক্তিশালী মুসলিম রাষ্ট্রের এই ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

 

- Mehr News