রবিবার, ডিসেম্বর ৭, ২০২৫
২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরানকে চাপে ফেলা অসম্ভব, সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের কঠোর হুঁশিয়ারি

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৮:৪৯ পিএম

ইরানকে চাপে ফেলা অসম্ভব, সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের কঠোর হুঁশিয়ারি
ছবি: MNA

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশে, বিশেষ করে তার দেশের বৈরী শক্তিসমূহের প্রতি কঠোর সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, সামরিক শক্তি প্রদর্শন বা যুদ্ধের সরঞ্জাম ব্যবহার করে ইরানের ওপর কোনো অযৌক্তিক বা অতিরিক্ত দাবি চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে না।

 

মঙ্গলবার তেহরানে আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ভাষণদানকালে তিনি এই দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন। একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে প্রেসিডেন্টের এমন রাজনৈতিক ও ভূ-কৌশলগত বার্তা প্রদান বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তার বক্তব্যে ইরানের জনগণের অদম্য সাহস, ধৈর্য এবং সংকল্পের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

 

তিনি বলেন, "শত্রুদের এটা খুব ভালোভাবেই অনুধাবন করা উচিত যে, ইরানের মতো একটি স্থিতিস্থাপক এবং অবিচল জাতিকে কখনোই গায়ের জোরে নতি স্বীকার করানো যাবে না। তারা যদি মনে করে সামরিক যুদ্ধের মাধ্যমে আমাদের দাবিয়ে রাখবে বা তাদের অন্যায্য ইচ্ছাগুলো আমাদের ওপর চাপিয়ে দেবে, তবে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে।" তার মতে, ইরানের ইতিহাস এবং সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করে যে, বহিঃশত্রুর চাপ যত বাড়ে, ইরানি জাতির ঐক্য তত সুদৃঢ় হয়।

 

বক্তব্যের একটি উল্লেখযোগ্য অংশে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান সম্প্রতি ইসরায়েলের সাথে ইরানের ১২ দিনব্যাপী সংঘটিত যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি অভিযোগ করেন, জায়নবাদী রাষ্ট্র ইসরায়েল এবং তাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক যুক্তরাষ্ট্র একটি ভ্রান্ত ও মিথ্যা ধারণার বশবর্তী হয়ে ইরানের ওপর এই হামলা চালিয়েছিল। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল যুদ্ধের ডামাডোলে ইরানের সাধারণ জনগণকে বর্তমান ইসলামি শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে উসকে দেওয়া এবং রাজপথে নামানো।

 

কিন্তু তাদের সেই সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র বিফল হয়েছে। পেজেশকিয়ান গর্বের সাথে উল্লেখ করেন, "ইরানের জনগণ আবারও প্রমাণ করেছে যে, তারা তাদের রাষ্ট্র এবং শাসনব্যবস্থার প্রতি পূর্ণ আস্থাশীল। তারা শত্রুর পাতা ফাঁদে পা না দিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে বিদেশি চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিয়েছে।" অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বিষয়েও প্রেসিডেন্ট তার প্রশাসনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

 

তিনি স্বীকার করেন যে দেশ বর্তমানে কিছু সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, জনগণের সহযোগিতা থাকলে সরকার এসব সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, "সরকারের কর্মকর্তারা দেশের মহৎ ও দেশপ্রেমিক জনগণের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন। আমরা ইতিমধ্যে সমস্যা সমাধানে বেশ কিছু বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।"

 

পরিশেষে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান প্রতিশ্রুতি দেন যে, তার প্রশাসন দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবসের এই মঞ্চ থেকে তিনি মূলত বিশ্বকে এই বার্তাই দিতে চেয়েছেন যে, ইরান অভ্যন্তরীণভাবে সংহত এবং যেকোনো বহিরাগত হুমকি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত। তার এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে মেরুকরণ শুরু হয়েছে।

 

- Mehr News