সোমবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিরিয়ার কুনেইত্রায় ইসরায়েলি বাহিনীর বড় ধরনের অনুপ্রবেশ, ১০টি ট্যাংক ও সাঁজোয়া যানের বহর নিয়ে সেনাঘাঁটি ধ্বংস

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৮:৫৪ পিএম

সিরিয়ার কুনেইত্রায় ইসরায়েলি বাহিনীর বড় ধরনের অনুপ্রবেশ, ১০টি ট্যাংক ও সাঁজোয়া যানের বহর নিয়ে সেনাঘাঁটি ধ্বংস
ছবি: MNA

সিরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কুনেইত্রা প্রদেশে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নতুন করে বড় ধরনের অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সকালে ইসরায়েলি বাহিনী অন্তত ১০টি ট্যাংক ও বিপুল সংখ্যক আর্মার্ড পার্সোনেল ক্যারিয়ার (এপিসি) বা সাঁজোয়া যান নিয়ে সিরিয়ার ভূখণ্ডে প্রবেশ করে।

 

এই আগ্রাসনের অংশ হিসেবে তারা আল-সামদানিয়া আল-শারকিয়া গ্রামে অবস্থান নেয় এবং সেখানে পরিত্যক্ত একটি সিরীয় সেনাঘাঁটি পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় গণমাধ্যমে এই ঘটনাকে সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের ওপর এক বড় আঘাত হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আল-আখবারিয়া নেটওয়ার্কের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর একটি সুসজ্জিত বহর মঙ্গলবার সকালে কুনেইত্রার গ্রামাঞ্চলে বিশেষ অভিযান শুরু করে।

 

স্থানীয় সময় সকালের দিকে দুটি শক্তিশালী মেরকাভা ট্যাংক এবং বেশ কয়েকটি সাঁজোয়া যানের সহায়তায় ইসরায়েলি পদাতিক বাহিনী আল-সামদানিয়া আল-শারকিয়া গ্রামে প্রবেশ করে। গ্রামটি ঘিরে ফেলার পর তারা সেখানে অবস্থিত একটি পরিত্যক্ত সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করে। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় থেকে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা এই ঘাঁটিটি রিমোট-কন্ট্রোলড বা দূরনিয়ন্ত্রিত শক্তিশালী বিস্ফোরক ব্যবহার করে উড়িয়ে দেওয়া হয়।

 

বিস্ফোরণের তীব্রতায় আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে এবং ধ্বংসযজ্ঞের পর নিকটবর্তী গ্রামগুলো থেকে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উড়তে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক বহরটি কুনেইত্রার উত্তরাঞ্চলীয় আল-হামিদিয়া সড়ক অতিক্রম করে সিরিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে প্রবেশ করে। আল-সামদানিয়া আল-শারকিয়া সড়ক পার হয়ে তারা জুবা এবং উম্ম আল-বাতিনার মতো পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোর দিকেও অগ্রসর হয়।

 

এই বিশাল সামরিক বহরে ১০টি সাঁজোয়া যান বা এপিসি এবং দুটি প্রধান যুদ্ধ ট্যাংকসহ বিপুল সংখ্যক পদাতিক সেনা ছিল বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের এই অনধিকার প্রবেশ ও সামরিক তৎপরতা স্থানীয় জনমনে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি করে। আল-আখবারিয়া তাদের প্রতিবেদনে এই ঘটনাকে একটি "সুস্পষ্ট এবং ইচ্ছাকৃত আগ্রাসন" হিসেবে বর্ণনা করেছে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল নিয়মিতভাবেই আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে সিরিয়ার ভূখণ্ডে এ ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে। তবে মঙ্গলবারের এই অভিযানে বিপুল সংখ্যক ট্যাংক ও সাঁজোয়া যানের ব্যবহার পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। ধ্বংসপ্রাপ্ত ঘাঁটিটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত থাকলেও, ইসরায়েলি বাহিনীর এমন পদক্ষেপ সিরিয়ার সীমান্তে তাদের আগ্রাসী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই ঘটনার পর পুরো কুনেইত্রা প্রদেশে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তা শঙ্কা আরও জোরদার হয়েছে।

 

- Mehr News