বুধবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটিকে দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। জেরুজালেমের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মূলত ‘ইসরায়েল-ইউক্রেন আন্তঃসরকার অর্থনৈতিক কমিশন’-এর কার্যক্রম পুনরায় চালু করার বিষয়ে আলোচনা হয়, যা ২০২১ সালের পর আর অনুষ্ঠিত হয়নি। উপ-প্রধানমন্ত্রী কাচকার নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদল এই আলোচনায় অংশ নেয়।
বৈঠকের পর ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডন সা’রের দপ্তর থেকে জানানো হয়, আলোচনায় ইউক্রেন যুদ্ধ এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা দিক উঠে এসেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সা’র ইউক্রেনের বর্তমান পরিস্থিতির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “ইউক্রেন যে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং সেখানকার জনগণ যে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে, সে বিষয়ে ইসরায়েল সম্পূর্ণ সচেতন।”
বৈঠকে নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউক্রেনকে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস এবং ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য জোরালো আহ্বান জানান। এছাড়া, রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে ইরানের হুমকি মোকাবিলায় দুই দেশের মধ্যে যে যৌথ সংলাপ স্থগিত ছিল, তা অতি দ্রুত পুনরায় শুরু করার বিষয়ে উভয় পক্ষ ঐকমত্যে পৌঁছায়।
উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসে কিয়েভ সফরকালে সা’র এই সংলাপ চালুর ঘোষণা দিলেও তখন কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল ইউক্রেন যুদ্ধে মানবিক সহায়তা দিলেও রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি বৈরিতা এড়াতে কিছুটা সংযত এবং ভারসাম্যপূর্ণ নীতি বজায় রেখে আসছিল। এর মূল কারণ ছিল সিরিয়ায় রাশিয়ার শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতি এবং ইসরায়েলের নিজস্ব নিরাপত্তা স্বার্থ।
তবে গত বছর সিরিয়ায় রাশিয়ার দীর্ঘদিনের মিত্র বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট দ্রুত পরিবর্তিত হয়েছে। আসাদ সরকারের পতনের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার প্রভাব কিছুটা খর্ব হওয়ায় এবং নিরাপত্তা সমীকরণ বদলে যাওয়ায় জেরুজালেম ও কিয়েভের মধ্যে সম্পর্কের উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের মাধ্যমে ইসরায়েল ও ইউক্রেন উভয়েই ইরান এবং রাশিয়ার মতো অভিন্ন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নিজেদের কৌশলগত অবস্থান আরও সুদৃঢ় করার বার্তা দিল।