মঙ্গলবার, জানুয়ারী ১৩, ২০২৬
৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সফলভাবে নিক্ষিপ্ত হলো শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৫:০৭ পিএম

সফলভাবে নিক্ষিপ্ত হলো শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র
ছবি: MNA

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি)-এর নৌবাহিনী পারস্য উপসাগরে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ও প্রস্তুতির জানান দিতে এক বিশাল নৌ মহড়া পরিচালনা করেছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলসীমায় অনুষ্ঠিত মহড়ায় বিভিন্ন পাল্লার অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালানো হয়েছে।

 

তেহরান ভিত্তিক সংবাদ সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবেই এই শক্তি প্রদর্শন করা হয়েছে। মহড়ার দ্বিতীয় পর্যায়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ওপর। আইআরজিসি দেশের অভ্যন্তরের গভীরতম স্থানগুলো থেকে 'কদর ১১০' (Qadr 110), 'কদর ৩৮০' (Qadr 380), 'কাদির' (Qadir) এবং '৩০৩' মডেলের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।

 

সামরিক সূত্রে জানানো হয়েছে, এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ওমান সাগরে আগে থেকে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুগুলোকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এবং একই সময়ে আঘাত করে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়। এই সফল পরীক্ষা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির নির্ভুলতা এবং দূরপাল্লার আক্রমণের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কেবল ক্ষেপণাস্ত্র নয়, আধুনিক যুদ্ধের অপরিহার্য অনুষঙ্গ ড্রোন বা চালকবিহীন বিমানের কার্যকারিতাও এই মহড়ায় যাচাই করা হয়।

 

মিসাইল নিক্ষেপের সাথে তাল মিলিয়ে ড্রোন সিস্টেমগুলো ব্যবহার করে কাল্পনিক শত্রুঘাঁটি শনাক্ত এবং সফলভাবে ধ্বংস করা হয়। এছাড়া, গত বুধবার শুরু হওয়া এই মহড়ায় সমুদ্রে অবস্থানরত যুদ্ধজাহাজগুলোতে মোতায়েন করা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের মহড়াও অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইরানের নৌযান ও উপকূলীয় স্থাপনাগুলোতে হামলা করতে আসা কাল্পনিক আকাশসীমাজাত হুমকি প্রতিহত করার কৌশল অনুশীলন করা হয়।

 

এই মহড়ার ভৌগোলিক অবস্থান এবং ব্যাপ্তি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পারস্য উপসাগর, বিশ্বের তেল বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালী এবং নাজাত দ্বীপপুঞ্জ-যার মধ্যে রয়েছে আবু মুসা, বৃহত্তর তুনব, ক্ষুদ্রতর তুনব এবং সিরি দ্বীপ-জুড়ে এই মহড়া বিস্তৃত ছিল। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সিমুলেটেড বা কৃত্রিম যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে কমব্যাট সিস্টেমের স্থিতিশীলতা যাচাই এবং শত্রুপক্ষের ইলেকট্রনিক যুদ্ধ বা 'ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার' মোকাবেলা করার সক্ষমতা অর্জনই ছিল এই মহড়ার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এর মাধ্যমে ইরান এই অঞ্চলে নিজেদের জলসীমার নিরাপত্তা রক্ষায় সদা প্রস্তুত থাকার কঠোর বার্তা বিশ্বকে প্রদান করেছে।

 

- Mehr News