শনিবার, জানুয়ারী ২৪, ২০২৬
১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইয়েমেনে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল থেকে আল-জুবাইদি বহিষ্কৃত

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৩:০১ পিএম

ইয়েমেনে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল থেকে আল-জুবাইদি বহিষ্কৃত
ছবি: AA

ইয়েমেনের চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক সংকটের মধ্যেই এক নাটকীয় পটপরিবর্তন ঘটেছে। দেশটির প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের (পিএলসি) চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিনি বুধবার এক বিশেষ ডিক্রি জারি করে কাউন্সিলের অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য এবং সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) প্রধান আইদারুস আল-জুবাইদিকে বরখাস্ত করেছেন।

 

রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে জারি করা ওই ডিক্রিতে জুবাইদির বিরুদ্ধে ‘গুরুতর রাষ্ট্রদ্রোহ’-এর অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তাকে অবিলম্বে বিচারের মুখোমুখি করতে প্রসিকিউটর জেনারেলের কাছে সোপর্দ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে এক নতুন মোড়ে নিয়ে গেছে। কেবল আল-জুবাইদিই নন, কাউন্সিলের শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে দেশটির পরিবহন মন্ত্রী আব্দুল সালাম হুমাইদ এবং পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক মন্ত্রী ওয়াদ বাদিবকেও তাদের পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে।

 

তাদের বিরুদ্ধেও তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে যে, যারা অবৈধভাবে অস্ত্র বিতরণ এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মতো কর্মকাণ্ডে লিপ্ত, তাদের খুঁজে বের করে গ্রেফতার করা হবে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সামরিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের একক কর্তৃত্ব এবং চেইন অব কমান্ডের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন-এগুলো আপসহীন ভিত্তি। এই নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের সংবিধান ও আইন অনুযায়ী কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।”

 

এই কঠোর সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক সময়ের সামরিক উত্তেজনা। মাত্র কয়েকদিন আগেই ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ হাজরামৌত এবং আল-মাহরা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। দেশটির মোট ভূখণ্ডের প্রায় অর্ধেকজুড়ে বিস্তৃত এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ গত মাসে এসটিসি বা আল-জুবাইদির অনুগত বাহিনীর দখলে চলে গিয়েছিল। সরকারি বাহিনীর এই বিজয়ের পরপরই রাজনৈতিক এই বড় পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার পেছনে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির প্রভাবও রয়েছে। গত সপ্তাহে সৌদি আরব অভিযোগ করেছিল যে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এসটিসি বাহিনীকে সৌদি সীমান্তের কাছে হাজরামৌত ও মাহরা প্রদেশে সামরিক অভিযান চালাতে প্ররোচিত করছে, যদিও আবুধাবি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে, গত শুক্রবার আল-জুবাইদি দক্ষিণ ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে একটি ‘গণভোট’ আয়োজন এবং দুই বছরের ‘অন্তর্বর্তীকালীন পর্যায়’ ঘোষণা করেছিলেন।

 

এসটিসি দীর্ঘ দিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, ইয়েমেনের কেন্দ্রীয় সরকার দক্ষিণাঞ্চলকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করে রেখেছে এবং তারা দক্ষিণের বিচ্ছেদ চায়। তবে ইয়েমেন সরকার ও প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় বদ্ধপরিকর এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী যেকোনো উদ্যোগ কঠোর হাতে দমনের বার্তা দিয়েছে। আল-জুবাইদির বহিষ্কার এবং মন্ত্রীদের অপসারণের মধ্য দিয়ে ইয়েমেনের ক্ষমতা কাঠামোতে বড় ধরণের রদবদল নিশ্চিত হলো। তবে এই পদক্ষেপ সংঘাত আরও উসকে দেবে নাকি স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে, তা দেখার জন্য আন্তর্জাতিক মহল সতর্ক দৃষ্টি রাখছে।

 

- AA News