ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল বুসাইদির সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ফিদান এসডিএফের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে এসডিএফের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যে জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তার মধ্যে এসডিএফের কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক। ফিদান অভিযোগ করেন যে, এই গোষ্ঠীটি পরোক্ষভাবে ইসরায়েলের নীতি ও স্বার্থ রক্ষা করে চলছে।
তার ভাষায়, “এসডিএফ যে ইসরায়েলের নীতির সেবা করছে, তা মোটেও কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি সিরিয়ার অভ্যন্তরে সক্রিয় এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অবস্থান নিয়ে তুরস্কের উদ্বেগের বিষয়টিই তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে যখন গাজা ও লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা তুঙ্গে, তখন সিরিয়ায় এসডিএফের ভূমিকা নিয়ে তুরস্কের এই বার্তা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
ফিদান এমন এক সময়ে এই মন্তব্য করলেন যখন সিরিয়ার আলেপ্পো শহরে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলেপ্পোর বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় এসডিএফ (যাকে তুরস্ক পিকেকে/ওয়াইপিজি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর শাখা হিসেবে বিবেচনা করে) অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। গোলাবর্ষণ ও স্নাইপার হামলায় সেখানে অন্তত ৫ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং ৩৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া এই হামলায় একজন সিরীয় সেনাসদস্যও আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সাধারণ মানুষের ওপর এমন হামলার জবাবে সিরীয় সেনাবাহিনীও পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে, যার ফলে আলেপ্পো ও এর আশেপাশের এলাকায় নতুন করে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। সংবাদ সম্মেলনে হাকান ফিদান আলেপ্পোর এই সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রেক্ষাপট টেনে এনে বলেন, সিরিয়ার অখণ্ডতা ও শান্তি ফিরিয়ে আনতে হলে সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। তুরস্ক দীর্ঘ দিন ধরেই সীমান্তে নিরাপত্তা এবং সিরিয়ার স্থিতিশীলতা নিয়ে কাজ করছে।
কিন্তু এসডিএফের মতো গোষ্ঠীগুলো যদি বিদেশি শক্তির ক্রীড়নক হিসেবে কাজ করে এবং সাধারণ মানুষের ওপর হামলা অব্যাহত রাখে, তবে জাতীয় ঐক্যের পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে দেওয়া এই বক্তব্যে ফিদান মূলত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও সিরিয়ার সংকট নিরসনে এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর লাগাম টানতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। আলেপ্পোর রক্তাক্ত পরিস্থিতি এবং তুরস্কের এই কঠোর হুশিয়ারি-সব মিলিয়ে সিরিয়ার আগামী দিনগুলো আরও ঘটনাবহুল হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।