সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানান, ২০২৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের বর্তমান ১০ বছর মেয়াদি সামরিক সহায়তা চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। এরপর তিনি এই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ নবায়ন বা নতুন করে বিপুল অংকের সহায়তা না-ও চাইতে পারেন। নেতানিয়াহুর মতে, ইসরায়েলের অর্থনীতি এখন অত্যন্ত মজবুত এবং তারা ধীরে ধীরে বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনতে সক্ষম। ইসরায়েলের এই নতুন অবস্থানকে লুফে নিয়েছেন ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় গ্রাহাম লেখেন, "আমরা ইসরায়েলকে যে সহায়তা দিয়েছি, তা ছিল একটি দুর্দান্ত বিনিয়োগ। এর মাধ্যমে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) শক্তিশালী হয়েছে, প্রযুক্তির আদান-প্রদান হয়েছে এবং আমাদের মিত্র আরও সক্ষম হয়েছে-যা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থেই কাজে লেগেছে। তবে এখন মনে হচ্ছে, ইসরায়েল তাদের অর্থনীতির শক্তিতে সেই সমীকরণটি পাল্টাতে চায়।"
তিনি আরও যোগ করেন, "আমাদের দশ বছর অপেক্ষা করার কোনো প্রয়োজন নেই। মিত্ররা যদি স্বাবলম্বী হতে চায়, তবে তা আমাদের জন্যও ভালো।" সিনেটর গ্রাহাম প্রস্তাব করেছেন, ইসরায়েলকে দেওয়া সামরিক সহায়তা দ্রুত বন্ধ করে সেই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সামরিক বাহিনীর জন্য বরাদ্দ করা উচিত। তিনি বলেন, "ইসরায়েলের জন্য বরাদ্দকৃত এই শত কোটি ডলার এখনই ফেরত আনা প্রয়োজন, যাতে আমরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের জাতীয় প্রতিরক্ষা বাজেট লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারি।
বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির সংঘাত ও যুদ্ধকৌশলের পরিবর্তনের কারণে আমাদের সামরিক বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি।" সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন্স সাবকমিটির প্রধান হিসেবে লিন্ডসে গ্রাহাম জানিয়েছেন, তিনি শিগগিরই ট্রাম্প প্রশাসন এবং ইসরায়েলের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেশ করবেন।
এই প্রস্তাবে ২০২৮ সালের আগেই সহায়তার সময়সীমা নাটকীয়ভাবে কমিয়ে আনার এবং অর্থায়নের প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার রূপরেখা থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর এই ঘোষণা এবং লিন্ডসে গ্রাহামের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের দীর্ঘদিনের দাতা-গ্রহীতা সমীকরণে বড় ধরণের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।