শনিবার, জানুয়ারী ২৪, ২০২৬
১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েল কর্তৃক সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতির প্রত্যাখ্যান, সোমালিয়ার অখণ্ডতার পক্ষে তুরস্কের কঠোর অবস্থান

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারী, ২০২৬, ০১:০১ পিএম

ইসরায়েল কর্তৃক সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতির প্রত্যাখ্যান, সোমালিয়ার অখণ্ডতার পক্ষে তুরস্কের কঠোর অবস্থান
ছবি: AA

সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন বা ওআইসি-র পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাউন্সিলের জরুরি অধিবেশনে তুরস্ক সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। শনিবার অনুষ্ঠিত এই ২২তম বিশেষ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূত মুসা কুলাকলিকায়া।

 

তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, ইসরায়েল কর্তৃক সোমালিল্যান্ড অঞ্চলকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইনের সম্পূর্ণ লঙ্ঘন এবং তুরস্ক এই পদক্ষেপকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি অনুযায়ী, এই অধিবেশনে রাষ্ট্রদূত কুলাকলিকায়া সোমালিয়ার পাশে থাকার ব্যাপারে আঙ্কারার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সোমালিয়ার একটি বিচ্ছিন্ন অঞ্চলকে ইসরায়েলের স্বীকৃতি প্রদান ওই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক শান্তির জন্য হুমকিস্বরূপ।

 

ওআইসি-র এই বিশেষ অধিবেশনটি মূলত ইসরায়েলের সাম্প্রতিক একতরফা সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে মুসলিম বিশ্বের করণীয় নির্ধারণ এবং যৌথ প্রতিক্রিয়া জানানোর লক্ষ্যেই আয়োজন করা হয়েছিল। অধিবেশনে তুরস্কের প্রতিনিধি দল ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার রক্ষা এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সকল প্রচেষ্টার প্রতি তাদের অবিচল সমর্থনের কথাও পুনর্ব্যক্ত করে।

 

এই কূটনৈতিক উত্তেজনার সূত্রপাত হয় গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর, যখন ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে সোমালিল্যান্ডকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেয়। বিশ্বের প্রথম এবং একমাত্র দেশ হিসেবে ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ হর্ন অফ আফ্রিকা অঞ্চলে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সোমালিল্যান্ড ১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করলেও, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এতদিন পর্যন্ত তাদের সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। তারা কার্যত একটি স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছে।

 

ইসরায়েলের এই হঠাৎ স্বীকৃতিকে সোমালিয়া সরকার তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নগ্ন হস্তক্ষেপ এবং সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে। তুরস্কের এই প্রতিবাদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুতেও সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। সোমালিয়ার পতাকা হাতে হাজার হাজার মানুষ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েল সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়। বিক্ষোভকারীরা এই স্বীকৃতিকে অবৈধ এবং মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের ফাটল ধরানোর ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছে।

 

তুরস্ক মনে করে, আফ্রিকার এই কৌশলগত অঞ্চলে নতুন করে বিভাজন সৃষ্টি করা হলে তা দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের পথ প্রশস্ত করবে। আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে সোমালিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের কর্তৃত্ব এবং দেশটির ভৌগোলিক অখণ্ডতা বজায় রাখার ওপরই জোর দিচ্ছে আঙ্কারা। বিশ্লেষকদের মতে, ওআইসি-র এই মঞ্চ থেকে তুরস্কের এই কড়া বার্তা ইসরায়েল এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি স্পষ্ট সংকেত যে, সোমালিয়ার অখণ্ডতা বিনষ্টের যেকোনো প্রচেষ্টা মুসলিম বিশ্ব মেনে নেবে না।

 

- AA News