এর মধ্য দিয়ে আলেপ্পোর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শেখ মাকসুদ এবং আশরাফিয়া এলাকার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনরায় সিরীয় সেনাবাহিনীর হাতে ন্যস্ত হলো। প্রতিবেদনে জানানো হয়, চুক্তি অনুযায়ী ওয়াইপিজি ও এসডিএফ সদস্যদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে বাস এবং অ্যাম্বুলেন্সের একটি বিশেষ বহর ব্যবহার করা হয়। শেখ মাকসুদ এলাকার ইয়াসিন হাসপাতালে অবস্থানরত সশস্ত্র গোষ্ঠীর আরেকটি অংশকেও একই বহরে যুক্ত করে আলেপ্পো থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে নিশ্চিত করেছে যে, এটিই ছিল শহরটিতে অবস্থানরত ওই মিলিশিয়া গোষ্ঠীর সর্বশেষ দল। তাদের প্রস্থানের পরপরই সিরীয় সেনাবাহিনী এলাকাটিতে তাদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে এবং নিরাপত্তা চেকপয়েন্ট বসিয়ে টহল জোরদার করেছে। সশস্ত্র এই দলটিকে আলেপ্পো থেকে সরিয়ে ফোরাত নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত তাবকা শহরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাবকা বর্তমানে ওয়াইপিজি ও এসডিএফ-এর নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি এলাকা।
এর আগে শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় সিরীয় সেনাবাহিনী এক ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছিল যে, শেখ মাকসুদ এলাকায় তাদের সকল প্রকার সামরিক অভিযান স্থগিত করা হয়েছে। এই ঘোষণার পরেই মূলত এলাকাটি খালি করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত রূপ পায়। তবে এই সমঝোতার আগে গত মঙ্গলবার থেকে আলেপ্পোর পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। অভিযোগ রয়েছে, বিদায়ী এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো গত কয়েক দিন ধরে আলেপ্পোর আবাসিক এলাকা, বেসামরিক স্থাপনা এবং সেনাবাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে ব্যাপক গোলাবর্ষণ করেছিল।
এসব হামলায় অন্তত ২৩ জন সাধারণ মানুষ নিহত এবং শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। সংঘাতের তীব্রতা এতটাই মারাত্মক ছিল যে, আশরাফিয়া এবং শেখ মাকসুদ জেলা থেকে প্রায় ১ লক্ষ ৬৫ হাজার বাসিন্দা নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। বর্তমানে এলাকাটি সশস্ত্র গোষ্ঠীমুক্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সিরীয় সরকার জানিয়েছে, তারা এখন ওই এলাকার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কাজ শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, আলেপ্পোর এই নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার সিরীয় সেনাবাহিনীর জন্য একটি বড় কৌশলগত বিজয় এবং ওই অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হবে।