গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। ক্রমাগত ইসরায়েলি হামলায় হাসপাতালগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, যা টিকে আছে সেখানেও নেই পর্যাপ্ত ঔষধ, বিদ্যুৎ বা জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম। এমন পরিস্থিতিতে আমরের মতো গুরুতর আহত শিশুদের যন্ত্রণাই কেবল বাড়ছে। চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা করেও প্রয়োজনীয় সেবা দিতে পারছেন না। আমরের শরীরটা সাড়া দেয় না, কিন্তু তার চোখ দুটো যেন এই ধ্বংসযজ্ঞের নীরব সাক্ষী হয়ে আছে। যে বয়সে তার হেসেখেলে বেড়ানোর কথা, সেই বয়সে সে হাসপাতালের বিছানায় অসহায়ের মতো পড়ে আছে। আমরের কষ্ট লাঘবের একমাত্র উপায় ছিল তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু সেই পথও বন্ধ। ইসরায়েলের কঠোর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের কারণে চিকিৎসার জন্য বাইরে যাওয়ার অনুমতি পাওয়া প্রায় অসম্ভব। ফলে গাজা উপত্যকা এখন আমরের মতো হাজারো শিশুর জন্য এক উন্মুক্ত কারাগারে পরিণত হয়েছে, যেখান থেকে বেরোনোর কোনো পথ নেই।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানাচ্ছে, আমরের ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কোনো চিত্র নয়। এটি গাজার হাজার হাজার শিশুর মর্মান্তিক বাস্তবতার এক প্রতিচ্ছবি। যারা সরাসরি বোমার আঘাতে মারা যাচ্ছে না, তারা মারা যাচ্ছে বিনা চিকিৎসায়, ক্ষুধা আর অসহায়ত্বে। আমরের পঙ্গু শরীরটা যেন পুরো বিশ্বের সামনে এক কঠিন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে—এই নিষ্পাপ শিশুদের কষ্ট দেখার কি কেউ নেই? তার নীরব চাহনি যেন এই ধ্বংসলীলার বিরুদ্ধে মানবতাবোধের সবচেয়ে বড় অভিযোগ।
সূত্র// আল জাজিরা