গত রবিবার, অর্থাৎ ৭ জুন, এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার একটি ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে সর্বত্র তুমুল আলোচনার সৃষ্টি হয়। আন্তর্জাতিক ঘরানার শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া তাদের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই ব্যতিক্রমী ঘটনার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে ওই যুবকের নিয়মিত যাতায়াত ছিল। এই আসা-যাওয়ার সূত্র ধরেই শাশুড়ির প্রতি তার এক ধরনের মানসিক আকর্ষণ তৈরি হতে শুরু করে। পরবর্তীতে শাশুড়িও এই সম্পর্কের প্রতি তাঁর পূর্ণ সম্মতি জ্ঞাপন করেন।
সমাজের প্রচলিত প্রথা, পরিবারের তীব্র আপত্তি কিংবা লোকলজ্জার তোয়াক্কা না করে তারা নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। শেষ পর্যন্ত তারা আইনি পথে হাঁটার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন এবং আদালতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, ওই যুবক এবং তার নববিবাহিতা স্ত্রী অর্থাৎ প্রাক্তন শাশুড়ি গলায় ফুলের মালা পরিহিত অবস্থায় আদালতের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন।
তাদের হাতে রয়েছে বিয়ের আনুষ্ঠানিক আইনি কাগজপত্র। এই বার্তার মাধ্যমে তারা সাধারণ মানুষ এবং অন্তর্জাল ব্যবহারকারীদের কাছে তাদের এই নতুন সম্পর্ককে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়ার জন্য বিনীত আবেদন জানান।
জানা গিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (যাকে পূর্বে টুইটার নামে অভিহিত করা হতো) ‘দ্য তত্ত্ব’ নামক একটি পাতা থেকে এই দৃশ্যমান চিত্রটি প্রথম প্রকাশ করা হয়। প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লাখ লাখ মানুষ এটি দেখেন এবং নিজেদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
এই ঘটনাটি প্রচলিত সামাজিক মূল্যবোধ ও পারিবারিক কাঠামোর দৃষ্টিকোণ থেকে চরম বিতর্কের জন্ম দিলেও, এখন পর্যন্ত আইনি বা প্রশাসনিকভাবে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব দেখা যায়নি।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিষয়টি নিয়ে চারদিকে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা ও আলোচনা চললেও, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে এখন পর্যন্ত কেউ কোনো ধরনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি।
যেহেতু প্রাপ্তবয়স্ক দুজন ব্যক্তি দেশের প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এবং নিজেদের পূর্ণ সম্মতিতে এই বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন, তাই আইনিভাবেও এটি নিয়ে আপাতত কোনো বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই বিরল ঘটনাটি মানুষের মনস্তত্ত্ব, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং পারস্পরিক সম্পর্কের জটিলতা নিয়ে সমাজবিজ্ঞানীদের মাঝেও এক নতুন আলোচনার দ্বার উন্মোচন করেছে।