মহাকাশ যাত্রার বিবরণ ও বিলম্বের কারণ
গত ২৫শে জুন স্পেসএক্স ড্রাগন মহাকাশযান ‘গ্রেস’ ফ্যালকন রকেটে চড়ে মহাকাশের উদ্দেশে পাড়ি দেয় এবং প্রায় ২৮ ঘণ্টা পর ২৬শে জুন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের সাথে সফলভাবে ডকিং সম্পন্ন করে। নভোচারীরা ২৭শে জুন থেকে তাদের বৈজ্ঞানিক গবেষণা শুরু করেন, যা অনুযায়ী ১০ই জুলাই তাদের ১৪ দিনের মিশন শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ESA এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের নভোচারী স্লাভোস উজানস্কি-উইসনিউস্কির প্রত্যাবর্তন ১৪ই জুলাইয়ের আগে সম্ভব নয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, "এই তারিখটি এখনও চূড়ান্ত নয় এবং এটি ড্রাগন মহাকাশযানের আনডকিংয়ের উপর নির্ভরশীল।" মিশনের কমান্ডার পেগি হুইটসন, পাইলট শুভಾಂಶু শুক্লা এবং অন্য দুই বিশেষজ্ঞ স্লাভোস উজানস্কি-উইসনিউস্কি ও টিবোর কাপু বর্তমানে মহাকাশ স্টেশনেই অবস্থান করছেন। যদিও ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ISRO) এই বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
চলছে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা
অ্যাক্সিওম স্পেসের তথ্য অনুযায়ী, এই বিলম্বিত সময়েও নভোচারীরা অলস বসে নেই। তারা মহাকাশে নতুন প্রযুক্তি পরীক্ষা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং বিশ্বব্যাপী সচেতনতামূলক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। চারটি দেশের প্রতিনিধিত্বকারী এই টিম সম্মিলিতভাবে ৩১টি দেশের ৬০টি ভিন্ন ভিন্ন পরীক্ষা চালাচ্ছেন। বিশেষ করে, শুভಾಂಶু শুক্লা ভারতের সাতটি স্বদেশীয় প্রযুক্তিতে ডিজাইন করা মাইক্রোগ্র্যাভিটি পরীক্ষা এবং ইসরো-নাসার যৌথ সহযোগিতায় আরও পাঁচটি পরীক্ষা পরিচালনা করছেন। সম্প্রতি তিনি "স্প্রাউটস প্রজেক্ট" এর আওতায় পেট্রি ডিশে বীজ রোপণ করেছেন এবং সেগুলোকে মাইনাস ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার ল্যাবরেটরি ফ্রিজারে রেখেছেন। এর মাধ্যমে মাইক্রোগ্র্যাভিটি বা অতি অল্প অভিকর্ষ পরিবেশে বীজের অঙ্কুরোদ্গম এবং গাছের প্রাথমিক বিকাশের উপর প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা হবে। পৃথিবীতে ফিরে আসার পর এই বীজগুলো থেকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গাছপালা চাষ করে তাদের জেনেটিক্স, মাইক্রোবিয়াল ইকোসিস্টেম এবং পুষ্টির প্রোফাইলে পরিবর্তনগুলো ஆய்வு করা হবে।
এছাড়াও, শুক্লা মাইক্রোঅ্যালগি বা আণুবীক্ষণিক শৈবালের উপরও গবেষণা করছেন, যা ভবিষ্যতে নভোচারীদের জন্য খাদ্য, অক্সিজেন এবং জৈব জ্বালানির উৎস হয়ে উঠতে পারে। মহাকাশে দীর্ঘ সময় অবস্থানের এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নভোচারীরা বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন।
----