পাকিস্তানের আইন ও বিচার প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার আকিল মালিক বুধবার এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে এই বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, "ইমরানের ছেলেরা পাকিস্তানে আসতেই পারে, এতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু তারা যদি দেশে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করে, তবে তার অনুমতি দেওয়া হবে না।" তিনি যুক্তি দেখান, কাসিম ও সুলেমান ব্রিটিশ নাগরিক হওয়ায় পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বা কোনো ধরনের প্রতিবাদ-বিক্ষোভে আইনত অংশ নিতে পারেন না। মালিক আরও অভিযোগ করেন, পিটিআই একটি "রাজনৈতিক স্টান্ট" করার জন্য ইমরানের ছেলেদের "ট্রাম্প কার্ড" হিসেবে ব্যবহার করছে। তার মতে, "যদি তাদের পারিবারিক মূল্যবোধ থাকত, তবে তারা আরও আগেই তাদের বাবাকে দেখতে আসত।"
তবে সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে ভিন্ন ভিন্ন সুরও শোনা যাচ্ছে। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী কিছুটা ব্যঙ্গাত্মক সুরে বলেন, "তাদের (ইমরান খানের ছেলেদের) আসা উচিত এবং দেখা উচিত তাদের বাবা দেশের সাথে কী করেছে। তবে তারা আসবে না। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ আরও এক ধাপ এগিয়ে সরাসরি গ্রেফতারের হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, "তারা যদি এখানে একটি সহিংস আন্দোলন পরিচালনা করতে আসে, তবে তাদের গ্রেফতার করা হবে না কেন? অতীতের অভিজ্ঞতার পর পিটিআইকে আর বিশ্বাস করা যায় না।" তিনি আরও বলেন, ছেলেরা পাকিস্তানে এসে কেবল নিজেদের জন্যই বিপদ ডেকে আনবে এবং শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্য দূতাবাসকে তাদের ছাড়িয়ে নিয়ে যেতে হবে।
উল্লেখ্য, ইমরান খানের দুই ছেলে সাধারণত জনসমক্ষে আসেন না। তবে গত মে মাসে তারা প্রথমবারের মতো তাদের বাবার কারাবাস নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেন এবং সম্প্রতি কাসিম খান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বাবার মুক্তির দাবি জানান। ইমরান খান গত বছরের আগস্ট থেকে আদিয়ালা কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
---