মঙ্গলবার, জানুয়ারী ১৩, ২০২৬
৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনা: পাইলটদের কথোপকথনে বিভ্রান্তি, মাঝ আকাশে বন্ধ হয় ইঞ্জিন! প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য

RNS News

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ জুলাই, ২০২৫, ০৩:০৭ এএম

আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনা: পাইলটদের কথোপকথনে বিভ্রান্তি, মাঝ আকাশে বন্ধ হয় ইঞ্জিন! প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
ফাইল ছবি

আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেছে এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB)। বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিমানটির দুর্ঘটনার আগ মুহূর্তের পরিস্থিতি, ইঞ্জিনের আচরণ এবং পাইলটদের শেষ মুহূর্তের কথোপকথন সহ বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে ১৫ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে। গত ১২ই জুন ঘটা এই দুর্ঘটনায় ২৪১ জন যাত্রীর মধ্যে ২৪০ জন এবং ভূমিতে থাকা ১৯ জন প্রাণ হারান।

 

পত্রিকাগুলোর মতো করে সংবাদটি নিচে তুলে ধরা হলো:

তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, দুর্ঘটনার ঠিক আগে বিমানটির দুটি ইঞ্জিনের ফুয়েল কাটঅফ সুইচ 'রান' অবস্থা থেকে হঠাৎ 'কাটঅফ' অবস্থায় চলে যায়। এর পরপরই ককপিটে পাইলটদের মধ্যে বিভ্রান্তিকর কথোপকথন রেকর্ড করা হয়। একজন পাইলট জিজ্ঞাসা করেন, "আপনি কেন (ইঞ্জিন) বন্ধ করলেন?" উত্তরে অন্যজন বলেন, "আমি তো করিনি।" এই কথোপকথনটি বিমান চালনায় আকস্মিক বিভ্রান্তি বা যান্ত্রিক ত্রুটির সম্ভাবনাকে জোরালো করেছে।

 

ফ্লাইট রেকর্ডারের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ফুয়েল সুইচ বন্ধ হওয়ার সাথে সাথেই দুটি ইঞ্জিনের N2 (কোর স্পিড) মান স্বাভাবিক সর্বনিম্ন গতি থেকেও নিচে নেমে যায়, যা ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। যদিও কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ফুয়েল সুইচ পুনরায় 'রান' অবস্থায় ফিরিয়ে এনে ইঞ্জিন দুটি পুনরায় চালু করার চেষ্টা করা হয়েছিল। রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রথম ইঞ্জিনটি পুনরুদ্ধারের কিছুটা লক্ষণ দেখালেও দ্বিতীয় ইঞ্জিনটি পুনরায় চালু হতে ব্যর্থ হয় এবং এর গতি ক্রমাগত কমতে থাকে। এক্সহস্ট গ্যাস টেম্পারেচার (EGT) বৃদ্ধির তথ্য থেকে ইঞ্জিন পুনরায় চালুর চেষ্টার প্রমাণ মিলেছে, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।

 

দুঃখজনকভাবে, বিমানটির পেছনের দিকের ফ্লাইট রেকর্ডারটি (EAFR) দুর্ঘটনায় এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে প্রচলিত পদ্ধতিতে সেখান থেকে তথ্য উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। AAIB জানিয়েছে, তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে বোয়িং এবং জেনারেল ইলেকট্রিক (GE) সহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছ থেকে আরও তথ্য সংগ্রহ করে  পর্যালোচনা করা হবে। এখনও পর্যন্ত এই নির্দিষ্ট মডেলের বিমান বা এর ইঞ্জিনের জন্য কোনো সুরক্ষা সুপারিশ জারি করা হয়নি। তবে এই প্রাথমিক রিপোর্টটি দুর্ঘটনার পেছনে থাকা সম্ভাব্য কারণগুলোর একটি সুস্পষ্ট চিত্র দিয়েছে, যা চূড়ান্ত তদন্তকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা পুরো বিমান শিল্পকে শোকস্তব্ধ করেছে এবং এর সঠিক কারণ অনুসন্ধানে তদন্তকারী সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

 

---

হিন্দুস্থান টাইমস