মঙ্গলবার, জানুয়ারী ২০, ২০২৬
৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খাইবার পাখতুনখোয়া সিনেট নির্বাচন: ফজলুর রহমানকে পাশে টানতে তৎপর পিপিপি, বৈঠকে মিলল না সমাধান

RNS News

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ জুলাই, ২০২৫, ০৪:০৭ এএম

খাইবার পাখতুনখোয়া সিনেট নির্বাচন: ফজলুর রহমানকে পাশে টানতে তৎপর পিপিপি, বৈঠকে মিলল না সমাধান
ফাইল ছবি

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপি) প্রদেশের আসন্ন সিনেট নির্বাচনকে সামনে রেখে জমে উঠেছে রাজনৈতিক তৎপরতা। নির্বাচনে সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)-র এক উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল শুক্রবার জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলাম-ফজল (জেইউআই-এফ) প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছে। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরেও কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতা ছাড়াই এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি শেষ হয়েছে।

 

সমর্থন আদায়ে দৌড়ঝাঁপ:

পিপিপি'র প্রতিনিধিদলে ছিলেন বর্ষীয়ান নেতা সৈয়দ খুরশিদ শাহ, খাইবার পাখতুনখোয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি এবং জহির শাহ। তারা মাওলানা ফজলুর রহমানের বাসভবনে গিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সিনেট নির্বাচনের কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। জেইউআই-এফ-এর পক্ষ থেকে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা ফজলুর রহমান নিজে এবং দলের শীর্ষ নেতা আকরাম দুররানি, মাওলানা লুৎফুর রহমান সহ অন্যান্যরা। বৈঠক শেষে খুরশিদ শাহ বলেন, "মাওলানা সাহেবের সঙ্গে আমাদের ঐতিহ্যবাহী সম্পর্কের কারণেই আমরা এখানে এসেছি।" তিনি প্রতিটি দলের ম্যান্ডেটকে সম্মান করার ওপর জোর দেন। যদিও বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল সিনেট নির্বাচনে একযোগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা, কোনো পক্ষই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।

 

নির্বাচনী সমীকরণ ও গভর্নরের বক্তব্য:

আগামী ২১শে জুলাই খাইবার পাখতুনখোয়ার ১২টি আসনে সিনেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ১১টি আসনে নতুন নির্বাচন এবং একটি আসন সানিয়া নিশতারের পদত্যাগের কারণে শূন্য হয়েছে। গভর্নর কুন্দি জানান, পিপিপি এই নির্বাচনে পাঁচটি আসন পাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।নির্বাচনে 'হর্স ট্রেডিং' বা ভোট কেনাবেচার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি আশ্বাস দেন যে পিপিপি তা প্রতিরোধের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। এছাড়া, প্রদেশের সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, "প্রয়োজনীয় সংখ্যা থাকলে অনাস্থা প্রস্তাব আনা যেতে পারে। বৈঠকের পর গভর্নর কুন্দি নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়েও কথা বলেন। তিনি বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ককে ভারত মদত দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এবং হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "ইসরায়েল ও ভারতকে আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করতে দেওয়া উচিত নয়। আমাদের প্রতিবেশী যদি তাদের ভূমি ব্যবহার করার অনুমতি দেয়, তবে সম্পর্ক কীভাবে ভালো থাকবে?" এই মন্তব্যে আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

 

---

দাওয়ান