বিস্তারিত:
ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। রাজ্যের শাসক দল কংগ্রেসের বিধায়ক বিজयानন্দ কাশ্যপ্পানভার বিজেপির বিরুদ্ধে সরকার অস্থিতিশীল করার এক গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। তিনি দাবি করেছেন, বিজেপি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা যেমন प्रवर्तन निदेशालय (ইডি) এবং কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই)-কে ব্যবহার করে কংগ্রেসের প্রায় ৫৫ জন বিধায়ককে ভয় দেখাচ্ছে এবং দল ভাঙানোর ষড়যন্ত্র করছে।
রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কাশ্যপ্পানভার বলেন, "বিজেপি বরাবরই পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসতে চায়। তারা আমাদের ৫৫ জন বিধায়কের একটি তালিকা তৈরি করেছে এবং ইডি-সিবিআইয়ের ভয় দেখিয়ে তাঁদেরকে দলে টানার চেষ্টা করছে। আমি এই ধরনের হুমকিতে ভয় পাই না।" তিনি আরও বলেন, কংগ্রেসের কোনো বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দিলেই তাঁর বিরুদ্ধে চলা তদন্ত থেমে যায়, যা বিজেপির কাজের ধরণ প্রমাণ করে।
এই অভিযোগের জবাবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি বি.ওয়াই. বিজয়েন্দ্র তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "কংগ্রেসের অন্দরেই ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আগামী দিনে সরকারের মধ্যে 'সুনামি' আসতে পারে, এই আশঙ্কায় তারা এখন গল্প পরিবর্তন করার চেষ্টা করছে।" তাঁর মতে, রাজ্যে প্রশাসনিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং মুখ্যমন্ত্রী ও অন্যান্য বিধায়কদের মধ্যে ক্ষমতার লড়াই চলছে। সেই ব্যর্থতা ঢাকতেই কংগ্রেস এই ষড়যন্ত্র করছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী এই অভিযোগকে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ঢাকার একটি কৌশল বলে অভিহিত করেছেন। তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, "প্রকৃত ঘোড়া কেনাবেচা তো কংগ্রেসের ভেতরেই চলছে। মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি.কে. শিবকুমার নিজেদের শিবিরে বিধায়কদের সমর্থন ধরে রাখতে টাকার খেলা খেলছেন।" তিনি স্পষ্ট জানান, বিজেপি জনগণের রায়কে সম্মান করে এবং এই ধরনের অনৈতিক রাজনীতিতে জড়িত হতে চায় না।
এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগে কর্ণাটকের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ধরনের অস্থিরতা এবং недоверие তৈরি হয়েছে। কংগ্রেস নেতৃত্ব তাদের বিধায়কদের একজোট থাকার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী হলেও, বিজেপির এই আক্রমণাত্মক পাল্টা জবাব রাজ্যের রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
---