শনিবার, জানুয়ারী ২৪, ২০২৬
১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দিল্লিতে মর্মান্তিক পরিণতি: সামান্য ঋণের জেরে প্রাণ গেল দুই বাল্যবন্ধুর

RNS News

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ জুলাই, ২০২৫, ০১:০৭ এএম

দিল্লিতে মর্মান্তিক পরিণতি: সামান্য ঋণের জেরে প্রাণ গেল দুই বাল্যবন্ধুর
ফাইল ছবি

বন্ধুত্বের এক করুণ পরিণতি দেখল পশ্চিম দিল্লির খায়ালা অঞ্চল। ছোটবেলার দুই বন্ধু সামান্য একটি বচসার জেরে একে অপরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, জিম সাপ্লিমেন্টের টাকা নিয়ে শুরু হওয়া এক তর্ক এমন হিংসাত্মক রূপ নেবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি তাঁদের পরিবার বা প্রতিবেশীরা। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

ঘটনাটি ঘটে রবিবার রাতে। নিহতদের পরিচয় আরিফ ওরফে আশিক আলি (৩৫) এবং সন্দীপ যাদব (৩৬) বলে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তাঁরা দুজন কেবল বাল্যবন্ধুই ছিলেন না, ছিলেন প্রতিবেশীও; মাত্র তিনটি বাড়ি পরেই তাঁদের বসবাস ছিল। সন্দীপ শরীরচর্চার সাপ্লিমেন্ট বিক্রি করতেন এবং আরিফ পুরনো কাপড় বিক্রির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (পশ্চিম) বিচিত্র বীর জানান, "এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আরিফ এবং সন্দীপ বহু বছরের বন্ধু ছিলেন। রবিবার রাতে তাঁরা একটি পার্কে একসঙ্গে বসেছিলেন। সেখানেই তাঁদের মধ্যে কোনো একটি বিষয় নিয়ে তর্ক শুরু হয়, যা দ্রুত হাতাহাতিতে গড়ায়। মারামারির এক পর্যায়ে দুজনেই একে অপরকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন।"

 

ঘটনার পর আশেপাশের লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী দীনদয়াল উপাধ্যায় হাসপাতালে নিয়ে যায়। রবিবার রাত প্রায় দশটা নাগাদ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে বিষয়টি জানায়। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে দুজনেরই মৃত্যু হয়। নিহতদের একজনের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শরীরচর্চার সাপ্লিমেন্ট কেনা বাবদ কিছু টাকা পাওনা ছিল দুজনের মধ্যে। সেই সামান্য আর্থিক লেনদেন নিয়েই তাঁদের মধ্যে বিবাদের সূত্রপাত হয়। কিন্তু সেই সামান্য তর্ক যে দুই বন্ধুর প্রাণ কেড়ে নেবে, তা ছিল অকল্পনীয়। যেখানে তাঁদের বন্ধুত্বের গভীরতা নিয়ে এলাকাবাসী সব সময় আলোচনা করত, সেখানে এমন একটি তুচ্ছ কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটায় সকলেই হতবাক। পুলিশ জানিয়েছে, দুজনের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে। একটি ছোট বিবাদ কীভাবে দুটি পরিবারকে চিরকালের জন্য অন্ধকারে ঠেলে দিল, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে খায়ালার বাতাসে।

 

---

হিন্দুস্থান টাইমস