তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা চতুর্দশ দলাই লামার ৯০তম জন্মদিন উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ধার্মশালায় তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। রবিবার (গতকাল) মার্কিন দূতাবাস এই তথ্য জানিয়েছে। এই সাক্ষাৎ তিব্বতীয়দের মৌলিক স্বাধীনতার প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবিচল সমর্থনের ইঙ্গিত বহন করছে এবং বিশ্বজুড়ে তিব্বতীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।
বেথানি পাউলোস মরিসন, যিনি তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরো (SCA)-এর একজন উপ-সহকারী সচিব। মার্কিন দূতাবাস তাদের এক্স (আগের টুইটার) পোস্টে এই বৈঠকের কিছু ছবিও শেয়ার করেছে। দূতাবাসের পোস্টে লেখা হয়েছে: "@State_SCA-এর ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মরিসন তার ৯০তম জন্মদিন উদযাপনের সময় ধার্মশালা পরিদর্শন এবং মহামান্য @DalaiLama-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সম্মান পেয়েছেন। গতকাল, @SecRubio জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং তিব্বতীয়দের মৌলিক স্বাধীনতার প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।"
ধার্মশালায় দলাই লামা মন্দিরের প্রধান প্রাঙ্গণে রবিবার (গতকাল) চতুর্দশ দলাই লামার ৯০তম জন্মদিন উদযাপন করতে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তিব্বতীয় এই আধ্যাত্মিক নেতার জন্য শুভেচ্ছা বার্তা এসেছে। এই বিশাল জনসমাগমের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৭০ বছর বয়সী তিব্বতি সন্ন্যাসী লোবসাং শেরিং। তিনি ১৯৬০-এর দশকে চীনা দখলদারিত্বের পর দলাই লামার সঙ্গে ভারতে নির্বাসনে আসেন। লোবসাং শেরিং ঢাকা পোস্টকে বলেন, "মহামান্য দলাই লামার জন্মদিনে এত মানুষের সমাগম এবং মার্কিন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এই সফর আমাদের জন্য নতুন আশার বার্তা নিয়ে এসেছে। আমরা বিশ্বাস করি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন থাকলে আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম বৃথা যাবে না। চীনের দমন-পীড়ন সত্ত্বেও তিব্বতীয়দের আত্মা অটুট রয়েছে।" তার চোখে ছিল দীর্ঘদিনের বঞ্চনার ছাপ, কিন্তু একইসঙ্গে ছিল নিজ ভূমির স্বাধীনতার প্রতি অবিচল এক প্রত্যয়।
ভারত ও বিদেশের রাজনৈতিক নেতারাও দলাই লামার সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত হয়েছেন এবং বৌদ্ধ নেতার প্রতি তাদের সমর্থন জানিয়েছেন। দলাই লামা ১৯৬০-এর দশক থেকে ভারতে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন এবং চীনা দখলে যাওয়ার পর থেকে তিব্বতীয় জনগণের অধিকারের জন্য লড়াই করছেন।
মরিসন কয়েক দিন আগে ভারতে এসেছিলেন। বৃহস্পতিবার মার্কিন দূতাবাস তাদের এক্স পোস্টে লিখেছিল: "ভারতে স্বাগতম, @State_SCA ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মরিসন। আমরা মার্কিন-ভারত কৌশলগত অংশীদারিত্বকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি ফলপ্রসূ ও আকর্ষক সফরের অপেক্ষায় রয়েছি। #USIndiaFWD"।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের ওয়েবসাইট অনুসারে, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরো আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান এবং উজবেকিস্তানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতি ও সম্পর্ক তত্ত্বাবধান করে। ওয়েবসাইটটি আরও জানায়, মরিসন ভারত ও ভুটানের জন্য দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর উপ-সহকারী সচিব। এই সাক্ষাৎ আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে তিব্বত ইস্যুর গুরুত্ব এবং মানবাধিকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।