রক্ষণশীল জাপানের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। দেশটির ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক অর্থনৈতিক নিরাপত্তা মন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। এই জয়ের ফলে তিনিই হতে চলেছেন জাপানের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী।
শনিবার (৪ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এলডিপির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ে তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, কৃষি মন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমিকে পরাজিত করেন।
নির্বাচনের প্রথম দফায় পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে কেউই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায়, শীর্ষ দুই প্রার্থী—তাকাইচি এবং কোইজুমিকে নিয়ে দ্বিতীয় দফার রান-অফ ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। রান-অফ ভোটে তাকাইচি ১৮৫টি ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, যেখানে কোইজুমি পান ১৫৬টি ভোট। প্রথম দফার ভোটেও তাকাইচি সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন।
জাপানের সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, পার্লামেন্টে ক্ষমতাসীন দলের নেতাই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন। যেহেতু এলডিপি বর্তমানে জাপানের একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল, তাই দলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাকাইচির এই জয়ই তাকে প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন করবে।
৬৪ বছর বয়সী সানায়ে তাকাইচি জাপানের রাজনীতিতে একজন কট্টর রক্ষণশীল এবং জাতীয়তাবাদী নেতা হিসেবে পরিচিত। তার এই বিজয় শুধুমাত্র জাপানের রাজনীতিতে লিঙ্গ বৈষম্যের দীর্ঘদিনের অচলায়তনই ভাঙল না, বরং দেশটির ভবিষ্যৎ নীতিতেও একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল। এখন দেখার বিষয়, জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জগুলো কীভাবে মোকাবিলা করেন।