মঙ্গলবার, জানুয়ারী ১৩, ২০২৬
৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভারত ভাগের আইন পাস: ব্রিটিশ লর্ডদের কণ্ঠে ছিল শুভেচ্ছা, সংশয় আর আক্ষেপ

RNS News

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ জুলাই, ২০২৫, ০২:০৭ এএম

ভারত ভাগের আইন পাস: ব্রিটিশ লর্ডদের কণ্ঠে ছিল শুভেচ্ছা, সংশয় আর আক্ষেপ
ফাইল ছবি

ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, ঠিক এই সময়েই নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল ভারতবর্ষের ভাগ্য। ১৯৪৭ সালের ১৭ জুলাই, ব্রিটিশ উচ্চকক্ষ হাউস অফ লর্ডসে চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে ‘ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স বিল’ বা ভারতের স্বাধীনতা আইন। এই বিল পাসের মধ্য দিয়েই প্রায় ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসনের অবসান এবং ভারত ও পাকিস্তান নামক দুটি নতুন স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের পথ প্রশস্ত হয়। যদিও বিলটি আইনে পরিণত হতে রাজার আনুষ্ঠানিক সম্মতির প্রয়োজন ছিল, তবে সেটি ছিল কেবলই এক আনুষ্ঠানিকতা।

 

লর্ড মাউন্টব্যাটেনের পরিকল্পনার উপর ভিত্তি করে তৈরি এই বিলে ভারতবর্ষকে দ্বিখণ্ডিত করার প্রস্তাবনা ছিল। এর আওতায় বাংলা ও পাঞ্জাব প্রদেশকে ভাগ করে ভারত ও পাকিস্তানের সীমানা নির্ধারণ, আইন প্রণয়নের ক্ষমতা দুই দেশের গণপরিষদের হাতে তুলে দেওয়া এবং দেশীয় রাজ্যগুলোর উপর থেকে ব্রিটিশ কর্তৃত্বের অবসানের কথা বলা হয়। হাউস অফ লর্ডসে লেবার এবং কনজারভেটিভ পার্টির সদস্যরা প্রায় পাঁচ ঘণ্টার এক দ্রুত আলোচনার পর বিলটিকে আন্তরিকভাবে অনুমোদন দেন।

 

ভারতের শেষ সেক্রেটারি অফ স্টেট লর্ড লিস্টওয়েল বিলটি উত্থাপন করে দুটি নতুন রাষ্ট্রকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, ব্রিটিশরা ভারতকে স্বশাসন দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা ব্রিটিশ শাসনামলে স্বাধীনতার প্রসারে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। ব্রিটিশদের ভুল ও ব্যর্থতাগুলো ভারতীয়রা ক্ষমা করে দেবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। তবে তাঁর কণ্ঠে ছিল আক্ষেপের সুর। তিনি বলেন, "অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে ব্রিটিশ ভারত একটি রাষ্ট্র হিসেবে না হয়ে দুটি পৃথক জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। কিন্তু অনিচ্ছার ঐক্যে আবদ্ধ থেকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেয়ে পারস্পরিক সম্মতিতে বিভক্ত হওয়া শ্রেয়।" তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এই দুই দেশ আবার এক হয়ে বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ স্থান অর্জন করবে।

 

আলোচনায় অংশ নিয়ে ভারতের প্রাক্তন ভাইসরয় লর্ড হ্যালিফ্যাক্স এবং ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের রূপকার লর্ড টেম্পলউডও বক্তব্য রাখেন। লর্ড টেম্পলউড সতর্ক করে বলেন, যদি ভারত ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনী দুটি পৃথক সত্তায় আবদ্ধ হয়ে পড়ে, তবে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অপূরণীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে সবার মত এক ছিল না। কনজারভেটিভ দলের লর্ড সেলবোর্ন এর বিরোধিতা করে আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এই বিভক্তির ফলে ভারত আবার সেই গৃহযুদ্ধের অন্ধকারে ফিরে যাবে, যেখান থেকে ব্রিটিশরা তাকে উদ্ধার করেছিল। তাঁর এই সংশয় আর বাকি লর্ডদের শুভেচ্ছা ও আক্ষেপের মধ্য দিয়েই সেদিন রচিত হয়েছিল উপমহাদেশের স্বাধীনতার চূড়ান্ত অধ্যায়, যা অগণিত মানুষের জীবনে বয়ে এনেছিল মুক্তির আনন্দ এবং দেশভাগের তীব্র যন্ত্রণা।

 

---

হিন্দুস্থান টাইমস