সিমলার উপকণ্ঠে ভাট্টাকুফারে ভবন ধসের ২০ দিন পরও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কোনো স্পষ্টতা ছাড়াই অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। গত ৩০ জুন ভারী বৃষ্টির কারণে এই পাঁচতলা ভবনটি ধসে পড়েছিল, যদিও সৌভাগ্যবশত কয়েক ঘণ্টা আগেই ভবনটি খালি করে ফেলায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চলমান ফোর-লেন হাইওয়ে প্রকল্পের জন্য ত্রুটিপূর্ণ খনন কাজের ফলেই এই ধসের ঘটনা ঘটেছে। তাদের দাবি, পার্শ্ববর্তী আরও কয়েকটি বাড়ি ঝুঁকিতে রয়েছে। ৩০ জুনের ঘটনার পর ছয়টি ভবন খালি করা হয়েছিল এবং কর্তৃপক্ষ পাঁচটি বাড়িকে বিপদাপন্ন চিহ্নিত করেছিল। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো জানিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীসহ রাজ্যের শীর্ষ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও এখন পর্যন্ত কোনো আর্থিক বা লজিস্টিক সহায়তা পাননি তারা।
জয়ন্ত নামের এক বাসিন্দা, যার বাড়িটি অনিরাপদ ঘোষিত হয়েছে, এএনআইকে জানান, "৩০ জুন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাটি ঘটেছিল। আমার পরিবার বাড়িতেই ছিল যখন পাশের ভবনটি ধসে পড়ে। আমাদের বাড়িতে ফাটল দেখা দেয়। তারপর থেকে আমরা ছয়জন একটি ভাড়া ঘরে থাকতে বাধ্য হচ্ছি।"
তিনি আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী তাদের ১০,০০০ থেকে ১৫,০০০ রুপি পর্যন্ত ভাড়া সহায়তার আশ্বাস দিয়েছিলেন এবং ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (এনএইচএআই) বা ঠিকাদারের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়েরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কিছুই বাস্তবায়িত হয়নি, এমনকি এনএইচএআই থেকেও কোনো স্পষ্ট বার্তা আসেনি।
জয়ন্তের বাড়ি একটি বিপজ্জনকভাবে অস্থিতিশীল ঢালে দাঁড়িয়ে আছে। বাড়ির পেছনে একটি বিশাল ৫০০ ফুটের উল্লম্ব খাদ তৈরি হয়েছে, যা বাসিন্দাদের মতে সিমলা-পারাতু ফোর-লেন সম্প্রসারণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে এনএইচএআই-এর চলমান হাইওয়ে চওড়াকরণের কাজের ফল। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন যে, এই খনন কাজের কারণেই পাহাড়ের ঢাল দুর্বল হয়ে ধস নেমেছে।
পুলিশে এফআইআর দায়ের এবং স্থানীয় প্রশাসনের বিপদ স্বীকার করা সত্ত্বেও, পরিবারগুলো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। বাসিন্দারা এনএইচএআইকে তাদের পুরো এলাকা অধিগ্রহণ অথবা স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০ জুন থেকে হিমাচল প্রদেশে বৃষ্টি সংক্রান্ত ঘটনায় ১১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৬৪টি সরাসরি বৃষ্টিজনিত ঘটনা যেমন ভূমিধস, মেঘভাঙা বৃষ্টি বা বাড়ি ধসের কারণে এবং ৪৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটেছে। এছাড়াও, এখনো ৩৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। রাজ্যে ২৯৩টি বাড়ি সম্পূর্ণ এবং ৯১টি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত বন্যার কারণে ১,২৩৪.৯৮ কোটি রুপির আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, যেখানে রাস্তা, সরকারি পরিষেবা, কৃষি, বাড়িঘর এবং গবাদি পশুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।