শনিবার, জানুয়ারী ২৪, ২০২৬
১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানের বিশাল রেল প্রকল্পে অর্থায়নের সম্ভাবনা, এডিবি'র সমীক্ষায় নতুন আশা

RNS News

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ জুলাই, ২০২৫, ০৩:০৭ এএম

পাকিস্তানের বিশাল রেল প্রকল্পে অর্থায়নের সম্ভাবনা, এডিবি'র সমীক্ষায় নতুন আশা
ফাইল ছবি

পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত এবং মেইন লাইন-১ (এমএল-ওয়ান) রেলওয়ে আপগ্রেড প্রকল্পে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে। চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি)-এর অধীন এই প্রকল্পে আর্থিক সহায়তার সম্ভাবনা যাচাই করতে এগিয়ে এসেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এই লক্ষ্যে, এডিবি'র একটি বিশেষজ্ঞ দল পাকিস্তান রেলওয়ের কর্মকর্তাদের সাথে প্রকল্পের প্রথম ধাপের অংশ, ৪৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ করাচি-রোহরি সেকশন পরিদর্শন করেছে।

 

পাকিস্তান রেলওয়ের সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, এডিবি'র প্রধান পরিবহন পরিকল্পনাবিদ সাঙ্গয়ুন কিমের নেতৃত্বে একটি তথ্যানুসন্ধানী দল এই পরিদর্শন চালায়। তাদের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই এডিবি এই প্রকল্পে অর্থায়ন করবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।এমএল-ওয়ান প্রকল্পটি মূলত ১,৬৮৭ কিলোমিটার দীর্ঘ করাচি-পেশোয়ার রেললাইনকে আধুনিকীকরণের একটি মেগা প্রজেক্ট, যার আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৬.৭ বিলিয়ন ডলার। এই প্রকল্পের অধীনে রেললাইন ডাবল করা, উন্নত সিগন্যালিং ব্যবস্থা স্থাপন এবং দ্রুতগতির ট্রেন চালু করার কথা রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে পাকিস্তানের পণ্য পরিবহন ও যাত্রী পরিষেবার  বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি, থর কয়লা খনি থেকে দ্রুত কয়লা পরিবহন এবং রেকো ডিক খনি পর্যন্ত যোগাযোগ সহজতর হবে।

 

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক (ইসিসি) প্রকল্পটির অনুমোদন দিলেও মূলত তহবিলের অভাবে এর কাজ বারবার থমকে গেছে।রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাবর আলী রাজা জানিয়েছেন, "এমএল-ওয়ান প্রকল্পের প্রধান অর্থায়নকারী দেশ হলো চীন। এডিবি বর্তমানে শুধুমাত্র নিজস্ব অর্থায়নের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই করছে।" অর্থাৎ, এডিবি’র এই উদ্যোগ চীনা অর্থায়নের বিকল্প নয়, বরং একটি সম্ভাব্য অতিরিক্ত আর্থিক উৎস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই প্রকল্পটি পাকিস্তানের আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি এবং মধ্য এশিয়ার স্থলবেষ্টিত দেশগুলোকে তাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য দক্ষিণের বন্দরগুলো ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার বৃহত্তর অর্থনৈতিক কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই সমীক্ষার ফলে থমকে থাকা প্রকল্পটি নতুন করে গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

---

পাকিস্তান টুডে