নতুন এই রোডম্যাপ অনুযায়ী, যুদ্ধক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত এবং নির্ভুল করাই মূল লক্ষ্য। এর আওতায় 'সমন্বিত ড্রোন মিশন' (ড্রোন সোয়ার্মিং), রিয়েল-টাইম যুদ্ধক্ষেত্র পর্যবেক্ষণ, এবং সৈন্যদের প্রশিক্ষণের জন্য উন্নত কমব্যাট সিমুলেশনের মতো প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া, বিপুল পরিমাণ তথ্য দ্রুত বিশ্লেষণ করার জন্য AI টুল ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (LLM) ভিত্তিক টেক্সট সামারাইজার, এআই চ্যাটবট, ফেসিয়াল রিকগনিশন এবং যেকোনো অস্বাভাবিক হুমকি শনাক্ত করার প্রযুক্তি।
সেনাবাহিনীর সূত্রমতে, ড্রোন, স্যাটেলাইট এবং গ্রাউন্ড সেন্সর থেকে প্রাপ্ত তথ্যকে একত্রিত করে একটি 'স্মার্ট ওয়াররুম' তৈরি করা হবে, যা কমান্ডারদের মুহূর্তের মধ্যে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে। শুধু তাই নয়, লজিস্টিকস ও সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট, যন্ত্রপাতির পূর্বাভাসমূলক রক্ষণাবেক্ষণ (predictive maintenance) এবং জিপিএস-বিহীন পরিবেশে এআই-ভিত্তিক নেভিগেশনের মতো বিষয়গুলোও এই পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত। এই বৃহৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ইনফরমেশন সিস্টেমস (DGIS)-এর অধীনে একটি বিশেষ 'এআই টাস্ক ফোর্স' গঠন করা হবে। এই টাস্ক ফোর্স নতুন প্রযুক্তি কেনা, সৈন্যদের প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং ডেটা ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলো তত্ত্বাবধান করবে।
এছাড়াও, নতুন কেনা সমস্ত সরঞ্জামের প্রযুক্তিগত বিবরণে এআই ফিচার থাকা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে এবং পুরোনো কিছু সরঞ্জামেও এআই যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই লক্ষ্যে একটি বিশেষ এআই ল্যাব স্থাপন করা হচ্ছে, যা নৌ ও বিমানবাহিনীর এআই অ্যাপ্লিকেশনগুলোর সাথেও সমন্বয় করে কাজ করবে। প্রযুক্তিগত গবেষণায় গতি আনতে শিল্প ও অ্যাকাডেমিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও সহযোগিতা বাড়াচ্ছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।
---