প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর (PMO) থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতি অনুসারে, প্রধানমন্ত্রীর এই অনুষ্ঠানে যোগদান দেশের 'মেরিটাইম অমৃত কাল ভিশন ২০৪৭' (Maritime Amrit Kaal Vision 2047)-এর সঙ্গে তাঁর গভীর অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার লক্ষ্য হল ভারতকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান সামুদ্রিক শক্তিতে পরিণত করা। এই দৃষ্টি চারটি কৌশলগত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত: বন্দর-কেন্দ্রিক উন্নয়ন, জাহাজ চলাচল ও জাহাজ নির্মাণ, নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ ব্যবস্থা (seamless logistics), এবং সামুদ্রিক দক্ষতা বৃদ্ধি।
ভারত সামুদ্রিক সপ্তাহ ২০২৫-এর মূল আকর্ষণ ছিল গ্লোবাল মেরিটাইম সিইও ফোরাম, যা বিশ্বের বিভিন্ন সামুদ্রিক সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বড় বিনিয়োগকারী, নীতি-নির্ধারক, উদ্ভাবক এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের এক ছাদের নিচে এনেছে। এই ফোরাম মূলত টেকসই সামুদ্রিক বৃদ্ধি, স্থিতিস্থাপক সরবরাহ শৃঙ্খলা, পরিবেশবান্ধব জাহাজ চলাচল (green shipping), এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নীল অর্থনীতির কৌশল নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর বক্তৃতায় সামুদ্রিক ক্ষেত্রে সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গড়ে তোলার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মেও মন্তব্য করেন যে, এটি সামুদ্রিক খাতে সহযোগিতা গড়ে তোলার এবং এই ক্ষেত্রে ভারতের সংস্কারগুলি তুলে ধরার এক চমৎকার মঞ্চ।
গত ২৭ অক্টোবর শুরু হওয়া এবং ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলতে থাকা 'ভারত সামুদ্রিক সপ্তাহ ২০২৫'-এর এই সংস্করণটি 'সমুদ্রকে একত্রিত করা, এক সামুদ্রিক দৃষ্টি' (Uniting Oceans, One Maritime Vision) থিমের উপর ভিত্তি করে আয়োজিত হয়েছে। এই মঞ্চে ভারত নিজেকে বৈশ্বিক সামুদ্রিক কেন্দ্র (global maritime hub) এবং নীল অর্থনীতির নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার কৌশলগত রোডম্যাপ তুলে ধরছে।
এই ইভেন্টে বিশ্বের ৮৫টিরও বেশি দেশ থেকে প্রায় ১,০০,০০০-এর বেশি প্রতিনিধি, ৫০০-এর বেশি প্রদর্শক এবং ৩৫০-এর বেশি আন্তর্জাতিক বক্তা অংশগ্রহণ করছেন। গত সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং জাহাজ চলাচল মন্ত্রক থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে যে, এই আয়োজন সামুদ্রিক শিল্পে ব্যাপক বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করবে এবং ভারতের সমুদ্র অর্থনীতির উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
ভারতে সামুদ্রিক খাতের সংস্কার ও উন্নয়নে সরকারের বিশেষ পদক্ষেপ, যেমন সাগরমালা প্রকল্প এবং অন্যান্য নীতিগত পরিবর্তনগুলির ফলে গত দশকে এই খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদির উপস্থিতিতে এই আন্তর্জাতিক ফোরাম সেই অগ্রগতিকে বিশ্বব্যাপী প্রচার করার একটি বড় সুযোগ এনে দিল।