রবিবার প্রচারিত সিবিএস-এর "সিক্সটি মিনিটস" অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারের অংশবিশেষে ট্রাম্প বলেন, "তিনি (শি) খোলাখুলি বলেছেন, এবং তার লোকেরাও বৈঠকে প্রকাশ্যে বলেছেন, 'প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দায়িত্বে থাকাকালীন আমরা কখনোই কিছু করবো না,' কারণ তারা এর পরিণতি সম্পর্কে অবগত।"
ট্রাম্পের মতে, বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ায় শি জিনপিংয়ের সাথে তার আলোচনা মূলত মার্কিন-চীন বাণিজ্য সংক্রান্ত উদ্বেগের উপর কেন্দ্রীভূত ছিল; সেখানে তাইওয়ানের মতো বিতর্কিত বিষয়টি স্পর্শ করা হয়নি। তা সত্ত্বেও, মার্কিন প্রেসিডেন্ট আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন যে তার প্রশাসন চলাকালীন চীন তাইওয়ানের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেবে না।
চীন আক্রমণ করলে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে রক্ষা করতে সামরিক বাহিনী পাঠাবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, "যদি এমন কিছু ঘটে তবে আপনারা তা দেখতে পাবেন, এবং তিনি (শি) সেই উত্তরটি জানেন।"
এর প্রতিক্রিয়ায়, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংইউ এক বিবৃতিতে বলেছেন, চীন "কখনোই কোনো ব্যক্তি বা শক্তিকে কোনোভাবেই তাইওয়ানকে চীন থেকে বিচ্ছিন্ন করার অনুমতি দেবে না।" বিবৃতিতে আরও যোগ করা হয়, "তাইওয়ান প্রশ্নটি চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এটি চীনের মৌলিক স্বার্থের মূল অংশ।
তাইওয়ান প্রশ্নের সমাধান কীভাবে করা হবে তা চীনা জনগণের নিজেদের বিষয়, এবং কেবল চীনা জনগণই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।" তবে, ট্রাম্প শি জিনপিং বা চীনা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তাইওয়ান সংক্রান্ত কোনো আশ্বাস পেয়েছেন কিনা, এমন প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর পেংইউ দেননি।
উল্লেখ্য, মার্কিন কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরেই তাইওয়ানের বিরুদ্ধে চীনের সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বিগ্ন। যুক্তরাষ্ট্রের নীতি হলো তাইওয়ানের আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্থান নিশ্চিত করা এবং বেইজিংকে একতরফাভাবে দ্বীপটির স্থিতি পরিবর্তন করা থেকে বিরত রাখা। তবে, ১৯৭৯ সালের 'তাইওয়ান রিলেশনস অ্যাক্ট', যা দ্বীপটির সাথে মার্কিন সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করে, তা ওয়াশিংটনকে কোনো আক্রমণের ক্ষেত্রে সামরিক হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য করে না।
ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় প্রশাসনের অধীনেই যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের বিষয়ে "কৌশলগত অস্পষ্টতা" (strategic ambiguity) নীতি বজায় রেখেছে, যাতে বেইজিং বা তাইপে কেউই নিশ্চিত হতে না পারে যে এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র দ্বীপটিকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসবে কিনা।
হোয়াইট হাউস এখনও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি যে, কবে বা কখন শি জিনপিং বা চীনা কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে তার রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন তাইওয়ানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়ার এই কথিত আশ্বাস দিয়েছিলেন।