আল-মাসিরাহ টেলিভিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোহাম্মদ আল-ফারাহ ইসরায়েলি হুমকির প্রতিক্রিয়ায় এই কঠোর বার্তা দেন। তিনি বলেন, "জায়নবাদী যুদ্ধাপরাধীদের হুমকিগুলো মূলত তাদের আগ্রাসী নীতিকে ন্যায্যতা দেওয়ার একটি আবরণ মাত্র, যা তাদের অতীতের আক্রমণের ইতিহাসকে মুছে ফেলতে পারে না।" তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা ভীতি প্রদর্শনের ওপর নির্ভর করে, "তারা আমাদেরকেও সকল ক্ষেত্রে একইভাবে প্রতিক্রিয়াশীল হিসেবে দেখতে পাবে।"
আল-ফারাহ তার এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে আরও জোর দিয়ে বলেন, ইয়েমেনের জবাব হবে "বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ, যা প্রতিটি বিদ্বেষপূর্ণ পদক্ষেপকে একটি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত মূল্যে রূপান্তরিত করবে। এই মূল্য জায়নবাদী সত্তার ওপর ভারি পড়বে এবং তাদের ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দেবে।"
তিনি আরও বলেন, আনসারুল্লাহ জায়নবাদীদের আসল উদ্দেশ্য সম্পর্কে সচেতন, যা হলো এই অঞ্চলে একটি একক (একমেরু) আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা এবং যেকোনো প্রতিপক্ষকে বশীভূত করা। আল-ফারাহ স্পষ্ট করেন যে, ইয়েমেন কোনো অপরাধমূলক হুমকি জারি করছে না, বরং তারা এই ঘোষণা দিচ্ছে যে, যেকোনো আগ্রাসনকে চড়া মূল্য দিতে বাধ্য করার জন্য তারা প্রস্তুত।
উল্লেখ্য, গাজায় "গণহত্যা" তীব্রতর হওয়ার পর থেকে ইয়েমেনের নৌ ও ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী লোহিত সাগরে জায়নবাদী সত্তা (ইসরায়েল) এবং তার অংশীদারদের সাথে সম্পর্কিত জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে ক্রমাগত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, লোহিত সাগরের এই ঘটনাগুলো প্রতিরোধমূলক কৌশলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। ইয়েমেনের নৌ অভিযান যুদ্ধক্ষেত্রের প্রতিরোধ সক্ষমতাকে সরাসরি অর্থনৈতিক চাপে রূপান্তরিত করেছে, যা জায়নবাদী সত্তাকে তাদের জাহাজ চলাচলের পথ পরিবর্তন করতে এবং জরুরি লজিস্টিকসের ব্যয় বহন করতে বাধ্য করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অবরোধ গাজার বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ এবং অবরোধের জন্য আগ্রাসী শক্তিকে একটি অর্থনৈতিক মূল্য দিতে বাধ্য করছে- যে বোঝা এবার শুধু যুদ্ধের মাধ্যমেই নয়, বাণিজ্যের মাধ্যমেও চাপানো হয়েছে।