তবে, সরকারি সূত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই সামরিক বাহিনীর সদস্যরা সরাসরি ভাল্লুক নিধনের (Culling) কাজে অংশ নেবেন না। তাদের প্রধান কাজ হবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা প্রদান করা, যাতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
আকিতা প্রদেশের গভর্নর কেনতা সুজুকি বুধবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এই সংকটময় পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, স্থানীয় পর্যায় থেকে "মর্মাহত আর্তি" (desperate cries) আসছিল, যা প্রাদেশিক সরকারকে এই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে। গভর্নর বলেন, "মাঠ পর্যায় থেকে আমরা মরিয়া আবেদন পাচ্ছিলাম যে তারা আর পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছেন না।"
তিনি গভীর উদ্বেগের সাথে স্বীকার করেন, "পৌরসভা, প্রাদেশিক পুলিশ এবং স্থানীয় শিকারি সমিতির মতো প্রদেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদ দিয়ে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মোকাবিলা করা এককথায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।" স্থানীয় শিকারিদের দলগুলিও ভাল্লুকের এই উপদ্রব সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
গভর্নর সুজুকি সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "এই চলমান সংকটে, বাসিন্দাদের জীবন ও সম্পত্তি প্রতিদিন হুমকির মুখে পড়ছে। মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।"
তিনি জোর দিয়ে বলেন, "এই কঠিন বাস্তবতার নিরিখেই, আমরা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের (যারা আত্মরক্ষা বাহিনী পরিচালনা করে) কাছে সহযোগিতার অনুরোধ করার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি।" এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আকিতা প্রদেশ কর্তৃপক্ষ কার্যত স্বীকার করে নিল যে, বন্যপ্রাণীর আক্রমণ মোকাবিলা এখন আর স্থানীয় পর্যায়ের বিষয় নয়, এটি একটি বড় ধরনের জননিরাপত্তা সংকটে পরিণত হয়েছে, যার জন্য রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সামরিক সহায়তার প্রয়োজন।
জাপানে সাধারণত ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বড় মাপের উদ্ধারকার্যের মতো জরুরি পরিস্থিতিতেই আত্মরক্ষা বাহিনীকে ডাকা হয়। বন্যপ্রাণীর উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে সামরিক বাহিনীর সহায়তা চাওয়ার ঘটনা পরিস্থিতিটির ভয়াবহতাই তুলে ধরে।
যদিও জিএসডিএফ সদস্যরা সরাসরি ভাল্লুক শিকারে অংশ নিচ্ছেন না, তাদের উপস্থিতি স্থানীয় পুলিশ এবং শিকারিদের কার্যক্রমকে সমন্বিত করতে, নজরদারি বাড়াতে এবং আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা বলয় প্রদানে ব্যবহৃত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আকিতা প্রশাসন এখন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞ সহায়তায় এই ক্রমবর্ধমান সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করছে, যাতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।