মঙ্গলবার, জানুয়ারী ১৩, ২০২৬
৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কলকাতা আইন কলেজে ছাত্রীর উপর পাশবিক নির্যাতন: কড়া নিরাপত্তায় পুনরায় খুললো কলেজ ক্যাম্পাস

RNS News

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭ জুলাই, ২০২৫, ০১:০৭ পিএম

কলকাতা আইন কলেজে ছাত্রীর উপর পাশবিক নির্যাতন: কড়া নিরাপত্তায় পুনরায় খুললো কলেজ ক্যাম্পাস
ফাইল ছবি

দক্ষিণ কলকাতা আইন কলেজে ঘটে যাওয়া নারকীয় গণধর্ষণের ঘটনার পর অবশেষে সোমবার কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় পুনরায় চালু হলো কলেজের পঠনপাঠন। গত ২৫শে জুন প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীকে ক্যাম্পাসের মধ্যেই গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর থেকে উত্তাল ছিল গোটা এলাকা এবং ২৯শে জুন কলেজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই এক প্রাক্তন ছাত্র, কলেজের এক অস্থায়ী কর্মী এবং দুই বর্তমান ছাত্রকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

কলেজ  জানিয়েছেন, সোমবার শুধুমাত্র বিএ-এলএলবি প্রথম সেমিস্টারের ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার ফর্ম পূরণের জন্য ক্যাম্পাসে আসার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। আগামী ১৬ই জুলাই থেকে তাদের সেমিস্টার পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। পরিচয়পত্র ছাড়া কোনো ছাত্রছাত্রীকেই ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না এবং মঙ্গলবার থেকে এলএলএম-এর ক্লাসও শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২৫শে জুন। ২৪ বছর বয়সী ওই ছাত্রী পরীক্ষার ফর্ম পূরণ করার জন্য কলেজে আসেন। অভিযোগ, দুপুর ১২টা নাগাদ ফর্ম পূরণের পর তাকে কলেজের ইউনিয়ন রুমে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই কলেজ চত্বরের রক্ষীর ঘরের ভিতরে এক প্রাক্তন ছাত্র, এক অস্থায়ী কর্মী এবং আরও দুই ছাত্র মিলে তার উপর পাশবিক অত্যাচার চালায় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে এক নিরাপত্তারক্ষীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে ইউনিয়ন রুম এবং নিরাপত্তারক্ষীর ঘর দুটিই সিল করে দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুধু কলেজ চত্বরই নয়, রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন এবং নাগরিক সমাজ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং দোষীদের কঠোরতম শাস্তির দাবি তুলেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়েও বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তারা বদ্ধপরিকর এবং ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে, সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের মনে এখনও গভীর উদ্বেগ রয়ে গেছে। পুরো ঘটনাটি বর্তমানে পুলিশের তদন্তাধীন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
 

সূত্র// হিন্দুস্থান টাইমস