পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পর আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আহতদের বেশিরভাগেরই শরীর পুড়ে গেছে এবং বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে। ঘটনার সময় স্কুলটির ক্যান্টিনে কর্মরত ৪৩ বছর বয়সী লুসিয়ানা নামের একজন প্রত্যক্ষদর্শী সেই ভয়ঙ্কর মুহূর্তের বর্ণনা দেন। তিনি জানান, একাধিক বিকট বিস্ফোরণের শব্দে গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে, জানালার কাঁচ ভেঙে পড়ে এবং আতঙ্কিত মানুষজন কমপ্লেক্স থেকে দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করেন।
লুসিয়ানা বলেন, "আমাদের বুক ধড়ফড় করছিল, আমরা ঠিকমতো নিঃশ্বাস নিতে পারছিলাম না, আমরা সোজা বাইরে দৌড়ে যাই।" তিনি আরও বলেন, "প্রথমে ভেবেছিলাম বৈদ্যুতিক তারের কোনো সমস্যা বা সাউন্ড সিস্টেম বিস্ফোরিত হয়েছে, কিন্তু মসজিদ থেকে সাদা ধোঁয়ার কুণ্ডলী বের হতে দেখেই আমরা দৌড়ে পালাই, ঠিক কী ঘটেছে বুঝতে পারিনি।"
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় পুলিশ প্রধান লিস্ট্যো সিগিট প্রাবোও নিশ্চিত করেছেন যে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি সংলগ্ন স্কুলটিরই ছাত্র। তিনি জানান, ওই ছাত্রের পটভূমি, সে কোথা থেকে এসেছে এবং এই হামলার পেছনের উদ্দেশ্য কী, তা খতিয়ে দেখতে একটি গভীর তদন্ত শুরু হয়েছে।
এদিকে, দেশটির ডেপুটি হাউস স্পিকার সুফমি দাসকো আহমদ হাসপাতাল পরিদর্শনের পর গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন ওই কিশোর ছাত্র বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তার শরীরে অস্ত্রোপচার চলছে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য দেননি। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা 'আনতারা' উপ-প্রধান নিরাপত্তা মন্ত্রীর বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, মসজিদে দুটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনাস্থলটি নৌবাহিনীর মালিকানাধীন একটি জনবহুল এলাকায় অবস্থিত, যেখানে বহু সামরিক কর্মকর্তা ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বসবাস করেন। পুলিশ পুরো লোহার গেট-ঘেরা কমপ্লেক্সটি অপরাধস্থল হিসেবে চিহ্নিত করে ঘিরে রেখেছে। কালো পোশাক পরিহিত সশস্ত্র পুলিশ কর্মকর্তারা এলাকাটি পাহারা দিচ্ছেন এবং জরুরি সেবার গাড়ি ও সাঁজোয়া যান রাস্তায় সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে।
ঘটনাস্থলের ছবিতে দেখা গেছে, সবুজ রঙের মসজিদটির বাইরে মুসল্লিদের জুতার সারি পড়ে আছে এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ভেতর থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করছেন। মসজিদের বাইরের অংশে একটি ক্ষতিগ্রস্ত দানবাক্স ও ফ্যান পড়ে থাকতে দেখা গেলেও, ভবনের মূল কাঠামোতে বড় ধরনের কোনো ক্ষতি দৃশ্যমান হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা ইমানুয়েল তারিগান বলেন, "আমরা আমাদের বাচ্চাদের খুঁজতে এসেছিলাম যারা ওই স্কুলে পড়ে। এখানে ভয়াবহ ভিড় ছিল, আমরা অনেক আহত মানুষকে দেখেছি, কারও কারও মুখমণ্ডল বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল।"
উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়ায় গির্জা এবং পশ্চিমা লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পূর্ব ইতিহাস থাকলেও, মসজিদে এ ধরনের হামলার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে ইসলামপন্থী জঙ্গিবাদ অনেকাংশেই দমন করা হয়েছে।