৭৪ বছর বয়সী এই বর্ষীয়ান নেতা ২০২২ সালের আগস্ট মাসে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁর মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত ছিল। তবে সম্প্রতি তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। গত মার্চ মাসে দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (AIIMS)-এ তাঁর অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি করা হয়। যদিও এরপর তিনি সংসদীয় কাজে সক্রিয় ছিলেন, তবে তাঁর এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অবাক করেছে। উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে ধনখড়ের মেয়াদ ছিল বেশ ঘটনাবহুল। বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে তাঁর সংঘাতের ঘটনা বারবার শিরোনামে এসেছে। এমনকি স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে প্রথমবার একজন ক্ষমতাসীন উপরাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রস্তাবও আনা হয়, যদিও রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ নারায়ণ সিং সেই প্রস্তাবটি খারিজ করে দেন।
ধনখড়ের উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে শাসকদল বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ শিবিরে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের উভয় কক্ষের সদস্যদের নিয়ে গঠিত নির্বাচকমণ্ডলী (Electoral College) উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করে। লোকসভা ও রাজ্যসভায় এনডিএ-র সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তাদের মনোনীত প্রার্থীর জয় প্রায় নিশ্চিত। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন রাজ্যসভার বর্তমান ডেপুটি চেয়ারম্যান এবং জেডি(ইউ) সাংসদ হরিবংশের নাম। ২০২০ সাল থেকে এই পদে থাকা হরিবংশ সরকারের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত।এই পদত্যাগকে 'হতবাক করার মতো এবং অব্যাখ্যেয়' বলে অভিহিত করেছে কংগ্রেস। দলের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ বলেন, "ধনখড় সাহেবের স্বাস্থ্য অবশ্যই অগ্রাধিকার পাবে। কিন্তু তাঁর এই অপ্রত্যাশিত পদত্যাগের পিছনে আরও অনেক কিছু রয়েছে যা প্রকাশ্যে আসছে না।" উল্লেখ্য, ভি. ভি. গিরি (রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে লড়ার জন্য) এবং ভৈরোঁ সিং শেখাওয়াতের (রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর) পর জগদীপ ধনখড় হলেন তৃতীয় উপরাষ্ট্রপতি, যিনি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করলেন।
---