প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালের ১১ জুলাই মুম্বাইয়ের লোকাল ট্রেনে পরপর কয়েকটি সমন্বিত বিস্ফোরণে ১৮৯ জন নিরীহ মানুষের মৃত্যু হয় এবং প্রায় ৯০০ জন আহত হন। এই হামলা ভারতের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে পরিচিত। এই মামলায় মহারাষ্ট্রের অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (ATS) মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল। ২০১৫ সালে একটি বিশেষ মকোকো (MCOCA) আদালত তাদের মধ্যে ১২ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে। অভিযুক্তদের মধ্যে একজন, কামাল আহমেদ আনসারি, ২০২১ সালে কারাগারে মারা যান। সোমবার বোম্বে হাইকোর্ট এই মামলায় অভিযুক্ত ১২ জনকেই বেকসুর খালাস দেয়। বিচারপতি অনিল কিলোর এবং শ্যাম চান্ডকের ডিভিশন বেঞ্চ তাদের ৬৭১ পৃষ্ঠার রায়ে জানায় যে, প্রসিকিউশন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করতে "সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ" হয়েছে। আদালত তদন্তে একাধিক "গুরুতর ত্রুটি" খুঁজে পায়, যার মধ্যে ছিল সাজানো স্বীকারোক্তি, অবিশ্বস্ত সাক্ষী, প্রমাণ সামগ্রীর অব্যবস্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ কল ডেটা রেকর্ড নষ্ট করে ফেলা।
আদালত তার রায়ে কঠোরভাবে মন্তব্য করে, "মিথ্যা সমাধানের নাটক সাজিয়ে একটি মামলা শেষ করার ভান করলে জনবিশ্বাস নষ্ট হয়। এই প্রতারণামূলক পদক্ষেপে সমাজ সাময়িকভাবে আশ্বস্ত হলেও, প্রকৃত অপরাধীরা আড়ালেই থেকে যায়।" হাইকোর্ট আরও বলে, "অভিযুক্তরা যে এই অপরাধ করেছে, তা বিশ্বাস করা কঠিন।" যারা প্রায় ১৯ বছর কারাগারে কাটানোর পর মুক্তি পেলেন, তাদের খালাসের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে মহারাষ্ট্র সরকারের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত এই পুরোনো মামলাটিকে আবারও জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
---