২০০০ সালের ৯ই নভেম্বর উত্তর প্রদেশের উত্তরাঞ্চলীয় অংশ নিয়ে উত্তরাখণ্ড রাজ্য গঠিত হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী মোদী সেই দীর্ঘ সংগ্রামের কথা স্মরণ করে বলেন, "এই ৯ই নভেম্বরের দিনটি এক দীর্ঘ ও কঠোর সংগ্রামের ফসল। আজ এমন একটি দিন যা আমাদের সকলকে গর্বিত করে। উত্তরাখণ্ডের মানুষ বছরের পর বছর ধরে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা ২৫ বছর আগে অটল জীর (অটল বিহারী বাজপেয়ী) সরকারের অধীনে পূরণ হয়েছিল।"
রাজ্যবাসীর সাথে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আপনারা সকলেই জানেন উত্তরাখণ্ডের সাথে আমার সংযুক্তি কতটা গভীর।" তিনি তার জীবনের অতীত অধ্যায়ের স্মৃতিচারণ করে আরও বলেন, "যখনই আমি এখানে আধ্যাত্মিক যাত্রায় এসেছি, পাহাড়ে বসবাসকারী আমার ভাই ও বোনেদের সংগ্রাম, তাদের কঠোর পরিশ্রম এবং প্রতিকূলতা জয় করার উদ্দীপনা আমাকে সর্বদা অনুপ্রাণিত করেছে।"
তিনি বলেন, এই অঞ্চলের অদম্য সম্ভাবনা এবং জনগণের শক্তির প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস থেকেই তিনি বাবা কেদারনাথ পরিদর্শনের পর মন্তব্য করেছিলেন যে, "এই দশক উত্তরাখণ্ডের"। মোদী বলেন, "এটি কেবল একটি সাধারণ বাক্য ছিল না। যখন আমি এটা বলেছিলাম, তখন আপনাদের সকলের প্রতি আমার সম্পূর্ণ বিশ্বাস ছিল।"
গত আড়াই দশকের যাত্রাপথকে একটি অসামান্য রূপান্তর হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "পঁচিশ বছর আগে, যখন উত্তরাখণ্ড নতুন গঠিত হয়েছিল, তখন চ্যালেঞ্জ ছিল অগণিত। সম্পদ ছিল সীমিত। রাজ্যের বাজেট ছিল ছোট। আয়ের উৎস ছিল নগণ্য, আজ, সেই চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে।" তিনি রাজ্যটিকে ভারতের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অঞ্চল হিসেবে উল্লেখ করেন।
ভবিষ্যৎ রূপরেখা প্রদান করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উত্তরাখণ্ডের "বিশ্বের আধ্যাত্মিক রাজধানী" হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার অপার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি রাজ্যের প্রাচীন ঐতিহ্য, মন্দির, আশ্রম এবং ধ্যান ও যোগ কেন্দ্রগুলিকে একটি বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত করার আহ্বান জানান।
তিনি এই দর্শনকে 'আত্মনির্ভর ভারত'-এর জাতীয় লক্ষ্যের সাথে যুক্ত করে 'ভোকাল ফর লোকাল' বা স্থানীয় পণ্যের প্রচারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মোদী বলেন, "উত্তরাখণ্ড সর্বদা এই আদর্শকে (স্থানীয় পণ্যের প্রতি ভালোবাসা) ধারণ করে বেঁচে আছে, যা এখানকার ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।"